চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটে দেখা দিতে পারে খাদ্যসংকট, অরাজকতা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০০

যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকার যে ‘নো ডিল’ বা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পরিকল্পনা করছে তাতে সমুদ্রে পণ্য পরিবহন রুটে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা এবং সুনির্দিষ্ট ধরনের টাটকা খাবার ও ওষুধ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্রিটিশ সরকারের এক প্রাকমূল্যায়ন নথিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকর হলে তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে পালটা-পালটি বিক্ষোভ হতে পারে, যা দেশজুড়ে অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলেও এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত ‘অপারেশন ইয়োলোহ্যামার’ নামের এ প্রাকমূল্যায়ন নথিটি বরিস জনসন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নয় দিন পর, গত ২ আগস্ট প্রস্তুত হয়েছিল ।

জনসনের পরিকল্পনার সাপেক্ষে ৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্য ‘নো ডিল ব্রেক্সিটের’ মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সম্ভাব্য পরিস্থিতির ধারণা পেতেই এ মূল্যায়ন তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কীভাবে ব্রেক্সিট কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক বিভ্রান্তির কারণে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের প্রস্তুতি একেবারেই নিম্নতম পর্যায়ের। ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ হলে পণ্যবাহী লরিগুলোর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে আড়াই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের ইইউ সীমান্ত চৌকিগুলোতে অধিকতর তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে বলেও নথিটিতে ধারণা দেওয়া হয়েছে। ‘সুনির্দিষ্ট ধরনের টাটকা খাদ্যের সরবরাহ কমে আসবে। তখন আতঙ্কিত মানুষজনের বেশি খাদ্য ক্রয়ের ঝুঁকিও থাকছে, যা খাদ্য ঘাটতির কারণ হতে পারে,’ প্রকাশিত নথিতে এমনটাই বলা হয়েছে।

চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পর প্রথম দিনই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া যানবাহনের সংখ্যা এখনকার তুলনায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ব্রেক্সিট কার্যকরের পর এমন বাজে পরিস্থিতি তিন মাস পর্যন্ত থাকতে পারে বলেও এতে ধারণা দেওয়া হয়েছে। যানবাহনের লম্বা লাইনের কারণে জ্বালানি সরবরাহ এবং লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘নো ডিল ব্রেক্সিটে’ সীমান্তের বাইরে থাকা অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও অনুমান করা হয়েছে।

লেবার পার্টির ব্রেক্সিট বিষয়ক মুখপাত্র কেইর স্টার্মার বলেছেন, ‘নো ডিল ব্রেক্সিটের পরিণতি নিয়ে বরিস জনসন যে ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে অসততা করেছেন, তা এখন স্বীকার করে নেওয়া উচিত’ ।