এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০২

গত মার্চ মাসে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্টের সান্ধ্য প্রোগ্রামে একটি প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতাকে অবৈধভাবে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠিয়াছে। সম্প্রতি সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিকে এই সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হইবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হইতে শুরু করিয়াছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট ডিনের পদত্যাগ দাবি করিতেছেন। এইরূপ অনিয়মের আশ্রয় নিয়া যাহারা ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করিয়াছেন, তাহারা হইলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক ও তিনজন সদস্য। ইহা ছাড়া স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের ভিপিও আছেন এই তালিকায়। দীর্ঘ ২৮ বত্সর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এইরূপ শঠতার আশ্রয় নেওয়ায় পুরা নির্বাচন প্রক্রিয়াই আজ প্রশ্নবিদ্ধ হইল।

উল্লেখ্য, ঐ প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞাপনে বলা হইয়াছিল যে, আবেদনকারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হইবে। এইসব পরীক্ষার ফল, আগের একাডেমিক ফল ও কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করা হইবে সমন্বিত ফল। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ না নিয়া তাহারা কীভাবে ভর্তি হইলেন? এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হইয়াছিল ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। সেই অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় জানুয়ারিতে। আর ডাকসু নির্বাচন সামনে রাখিয়া এসব শিক্ষার্থী ভর্তি হন ১১ ফেব্রুয়ারি তপশিল ঘোষণার পর। তাই দেখা যায়, এইখানে তিন ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হইয়াছে—পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি, বিলম্বে ভর্তি ও অবৈধ ছাত্রদের ডাকসু নির্বাচনের সুযোগ দান। ইহার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগে ভর্তি হইতে বঞ্চিত হইয়াছেন। ইহাতে অভিযুক্তদের নৈতিক স্খলন ঘটিয়াছে নিঃসন্দেহে। এইজন্য অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিতদের পদ শূন্য ঘোষণা করিয়া সেই পদগুলিতে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠিয়াছে। এমনিতেই গত মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠে। এখন সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অবৈধ উপায় অবলম্বন করিয়া জয়ী প্রার্থীদের ছাত্রত্বই মানিয়া নিতে পারিতেছেন না। তাহারা বলিতেছেন, ইহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। একই সঙ্গে তাহারা সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলিয়াছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়া শেষ হইলে অনেক ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ছাত্রত্ব ধরিয়া রাখা ও ছাত্ররাজনীতি চালাইয়া যাওয়ার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হইয়া থাকেন। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন সামনে রাখিয়া যেইভাবে ৩৪ জন ছাত্রকে তড়িঘড়ি করিয়া ও অবৈধ পথে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হইয়াছে তাহা মানিয়া নেওয়া যায় না। বিভিন্ন বিষয়ে অনেক প্রশ্ন থাকিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়া অনেকটাই প্রতিযোগিতামূলক ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কিন্তু এই ঘটনায় তাহা কালিমাযুক্ত হইয়াছে। অতএব, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচ্য ছাত্রসংগঠনের অনেক বিতর্কিত কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। ইতোমধ্যে সেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ভাঙিয়া দেওয়ার কথাবার্তাও চলিতেছে। আমরা মনে করি, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, এমন কাজ যে কেহ করুক না কেন, তাহাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।