প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাদের মনোনয়ন দিতেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, মতাদর্শ এবং তারা সংশ্লিষ্ট পদে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারবেন
সেগুলো প্রাধান্য পেত। এসব যদি ঠিক হতো তাহলেই কেবল তারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে মনোনয়ন
দিচ্ছেন তাতে যোগ্যতার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না বরং তার কথা কে শুনবেন সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে
শিফারুল শেখ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনে ফের অস্থিরতা। কয়েক দিনের মধ্যে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। শুক্রবার তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পদে দুইজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তিনি মূলত ইয়েসম্যানদের মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে তার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়। জন কেলি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তে গঠিত কমিটিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আবার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের নতুন অভিযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাল্টা মন্তব্য প্রশাসনে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এতদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাদের মনোনয়ন দিতেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, মতাদর্শ এবং তারা সংশ্লিষ্ট পদে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারবেন সেগুলো প্রাধান্য পেতো। এসব যদি ঠিক হতো তাহলেই কেবল তারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে মনোনয়ন দিচ্ছেন তাতে যোগ্যতার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না বরং তার কথা কে শোনবেন সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবারের মনোনয়নে অন্তত সেই বিষয়টিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে উইলিয়াম বারকে এবং জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেদার নোয়ার্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আর সম্ভাব্য পদত্যাগকারী চিফ অব স্টাফ জন কেলির স্থলে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফ নিক আয়ারসকে মনোনয়ন দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্পকে রক্ষা করবেন?: অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে উইলিয়াম বারকে মনোনয়ন দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে সুবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। ৪১তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশ (জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ) গত শুক্রবার ৯৪ বছর বয়সে মারা যান। তার আমলে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন উইলিয়াম বার। সিনিয়র বুশের কাজের যখন প্রশংসা চলছে তখন তার আমলের একজনকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে রাজনৈতিক চালাকির কাজটি যথাযথ করেছেন। উইলিয়াম বার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহারের শক্ত পক্ষ। ১৯৯২ সালে উইলিয়াম বার ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারির মূল প্রত্যক্ষদর্শীকে ক্ষমা করে দিতে প্রেসিডেন্ট বুশকে প্রভাবিত করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি মূলত স্বাধীন প্রসিকিউটরের একটি পা কেটে ফেলেছিলেন। আর গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমিকে চাকরিচ্যুত করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমর্থন দেন। উইলিয়াম বার ইউরেনিয়াম ওয়ান ষড়যন্ত্র তত্ত্বও বের করেছিলেন যার মাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনকে টার্গেট করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করছেন, উইলিয়াম বার বিচার বিভাগের নেতৃত্ব দিলে তিনি যে কোনো সময় যে কোনো কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করতে পারবেন এবং নতুন নিয়োগ দিতে পারবেন। আর মূল যে তদন্ত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উদ্বিগ্ন সেটা হচ্ছে রুশ তদন্ত। তদন্ত কমিটির প্রধান রবার্ট মুলারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবেন উইলিয়াম বার যা ট্রাম্পের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে। এর আগের অ্যাটর্নি জেনারেলকে জেফ সেশনস এই তদন্ত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন যার সমালোচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
জাতিসংঘ দূতের পদকে গুরুত্ব দেন না ট্রাম্প!: জাতিসংঘ দূতের পদের দায়িত্ব যে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গুরুত্বসহকারে নেননি। তিনি মূলত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পিও এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতিসংঘে মূল কাজটি করবেন তারা। আর জাতিসংঘ দূত কেবল সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। তাইতো এই পদে হেদার নোয়ার্টের মতো একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হেদার নোয়ার্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হওয়ার আগে ফক্স নিউজের সাংবাদিক এবং উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। পররাষ্ট্র নীতি এবং রাজনীতি নিয়ে তার তেমন অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু তিনি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা শুনবেন সেটা হয়তো নিশ্চিত করেই বলা যায়।
নিক আয়ারসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প: কয়েকদিনের মধ্যে চিফ অব স্টাফ জন কেলি বিদায় নেবেন। এই পদে তিনি নিক আয়ারসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নিক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফ। একসময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কেলির সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। কিন্তু এখন তাদের মধ্যে কথা বলাও বন্ধ বলে জানা গেছে। এমনকি তিনি রুশ তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্যও দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। কেলি রিপাবলিকান এবং কট্টরপন্থিদের কাছে জনপ্রিয়। কিন্তু তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইয়েসম্যান নন। নিক আয়ারসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে দেখতে পান। কারণ নিক আয়ারস তার কথা শোনেন। আগে থেকেই তার ভক্ত। একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রশাসন থেকে কেউ বিদায় নিলে ট্রাম্প ভক্তরাই নিয়োগ পাচ্ছেন।
