বিশ্বকাপ বাছাই-২০২২

কাতার ও ভারতের মোকাবিলায় দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের উদ্যোগ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৭

আফগানিস্তানের কাছে হেরে গেলেও হতোদ্যম না হয়ে পরের দুই খেলায় কাতার ও ভারতের বিরুদ্ধে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এরই অংশ হিসেবে নিজেদের মাঠে কাতার ও এরপর ভারতে খেলতে যাওয়ার আগে জাতীয় দলের জন্য দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা ও কোচ জেমি ডে তাজিকিস্তানের মাঠে কাতার বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে ১-০ গোলে হারের পর ঢাকায় ফিরে ছুটিতে যাচ্ছেন। তবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় দল আবার অনুশীলনে নামবে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১০ অক্টোবর ঢাকায়  কাতারের বিপক্ষে। ১৫ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেকে হবে ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটি।

কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল টিমস কমিটির কো চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল। বৈঠকের পর গতকাল বিকেলে কোচ জেমি ডে জানান প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি হবে ২৯ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবর। প্রতিপক্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন শীর্ষস্থানীয় ক্লাব হলে ভাল। বিদেশী দল হলে নেপাল, ভুটান, লাওস কিংবা গুয়ামকে আনা যেতে পারে।

ফুটবলারদের ছুটি না দিয়ে ক্যাম্প চালু রাখা যেত কিনা এমন প্রশ্নে কোচ জেমি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দরকার। এখন অনুশীলনে থাকলে তারা অবসাদগ্রস্তু হয়ে পড়বে। ১০ অক্টোবর ম্যাচ। এর আগে যতটুকু সময় পাওয়া যাবে তাতে প্রস্তুতির জন্য চলবে।’ 

জানা গেছে, খেলোয়াড়দের দলবদল সামনে। খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে থাকলে ছুটাছুটি করতে পারবেন না। ক্যাম্পে ক্লাব কর্মকর্তারা আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের ক্যাম্পে মনোযোগী হতে পারবেন না। তাদেরও রুটি-রুজির ব্যাপার রয়েছে বলে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খেলোয়াড়রা না থাকলে কোচ থেকেই বা কী লাভ। তাই কোচকেও ছুটি দেয়া হয়েছে। তারওপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বিচারে সন্তুষ্টি আছে কোচ জেমি এবং ফুটবল কর্মকর্তাদের। তাই খেলোয়াড়রা ছুটিতে থাকলে আপত্তি নেই। তাজিকিস্তান যাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়েই ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ডাকা হবে। জেমি বলেছেন, ‘নতুন কোনো খেলোয়াড় ডাকা হবে না।’

জেমি মুখে না বললেও তার কথায় আভাস মেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিততেও পারত। ২৬ মিনিটে গোলটা হজম করেছে কিন্তু সেটি খুব আহামরি কিছু ছিল না। স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনকে ছোটো বক্সের ভেতরে পেছন থেকে ফেলে দিয়েছিলেন আফগান ডিফেন্ডার। বাংলাদেশ পেনাল্টি হতে বঞ্চিত হয়েছে সেটি বেশ জোর দিয়েই বলছেন কোচ। তবে কি চীনা রেফারি বাংলাদেশকে বঞ্চিত করল? রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন করলে জেমির সোজাসাপ্টা জবাব, ‘নো কমেন্টস।’ ফুটবল দুনিয়ায় রেফারি নিয়ে ফিফা-এএফসির কড়াকড়ি নিয়ম। বিচারক নিয়ে মন্তব্য নয়। জীবন দুই বার আফগানদের গোল পোস্টে শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটি টিভির পর্দায় দেখেছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা মিডফিল্ডার আরিফ খান জয়। বাফুফেতে গিয়েছিলেন জয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে জয় বললেন, ‘এ ধরনের ম্যাচে এক দুই সুযোগ আসবে সেটাকে কাজে লাগাতে কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়। জীবন দেরি করেছেন। তারপরও এক গোলে হারলেও বলব বাংলাদেশ ভালো খেলেছে।’