চৌমুহনী সরকারি মত্স্য খামার

চিংড়ি হ্যাচারিতে পোনা উত্পাদন বন্ধ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৯

চৌমুহনী সরকারি মত্স্য খামারের অভ্যন্তরে অবস্থিত চিংড়ি হ্যাচারিতে বন্ধ হয়ে আছে পোনা উত্পাদন। তাছাড়া জনবল সংকটের কারণেও মত্স্য খামারের কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

জানা যায়, চৌমুহনী শহরের মিয়ার পোল এলাকায় পাকিস্তান আমলে ৬ একর ভূমির ওপর সরকারি মত্স্য খামার গড়ে তোলা হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ৮টি পুকুর খনন করে মত্স্য খামারের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। মত্স্য চাষিরাও সহজে মাছের পোনা সংগ্রহ করেছিল। এদিকে, গত ২০ বছর পূর্বে চৌমুহনী মত্স্য খামারের অভ্যন্তরে চিংড়ি হ্যাচারি নির্মাণ করা হয়। যাতে এই চিংড়ি হ্যাচারি থেকে উত্পাদিত পোনা চিংড়ি চাষিদের মাঝে সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা যায়। কিন্তু বিপত্তি ঠেকে চিংড়ি হ্যাচারিতে পোনা উত্পাদন কাজে ব্যবহারের জন্য গভীর নলকূপ নিয়ে। নলকূপ থেকে উত্তোলিত পানিতে অতিমাত্রায় আয়রন থাকায় তা সম্পূর্ণ ব্যবহার অযোগ্য। ফলে শুরু থেকেই চিংড়ি হ্যাচারির উত্পাদনে বাধা সৃষ্টি হয়। প্রথম দিকে কয়েক বছর কক্সবাজার থেকে পানি এনে কিছু উত্পাদন করলেও তা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। গত কয়েক বছর থেকে তাও বন্ধ রয়েছে। এতে চিংড়ি চাষিরা চিংড়ি পোনা সংগ্রহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বেগমগঞ্জের মত্স্য ও চিংড়ি চাষি নুরুল আমীন, আবদুল গোফরান, সুজায়েত উল্যা, নূর করিমসহ কতিপয় মত্স্য চাষি জানান, চৌমুহনী সরকারি মত্স্য খামার থেকে কয়েক বছর পূর্বেও উত্কৃষ্টমানের কার্প জাতীয় মাছের পোনা নিয়মিত পাওয়া যেত। বর্তমানে মত্স্য চাষ মৌসুমেও পাওয়া যায় না। কয়েক দিন ঘুরতে হয়। আর চিংড়ি হ্যাচারি নির্মাণের পর থেকেই পানির অভাবে পোনা উত্পাদন করা সম্ভব হয় না। ফলে চাষিদের চিংড়ি চাষে আগ্রহ থাকলেও চাষ করা সম্ভব হয় না।

চৌমুহনী সরকারি মত্স্য খামারের ব্যবস্থাপক সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মত্স্য খামারের জনবল আট জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুই জন। এতে খামারের উত্পাদনেও ব্যাঘাত ঘটছে। অপরদিকে চিংড়ি হ্যাচারির পানি সমস্যা ছাড়াও হ্যাচারি এটেনডেন্ট, পাম্প অপারেটর নেই। যদি চিংড়ি হ্যাচারিতে ঠিকমতো উত্পাদন করা যেত তাহলে বছরে ১৫/ ১৬ লাখ পোনা উত্পাদন করা যেত। যাতে স্থানীয় মত্স্য চাষিদের চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা যেত।