সিরাজগঞ্জে রেলওয়ের জমি বেদখল হওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৪

সিরাজগঞ্জে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জমি বেদখল হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত বিচারাধীন ১৫টি মামলা পরিচালনাতেও গতি নেই বলে জানা গেছে। রেলওয়ের আইনজীবীরা ভূমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা, অধিগ্রহণের এলএ কেস, গেজেট, নকশা ও খতিয়ান চেয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগে বারবার আবেদন করেও পাচ্ছেন না।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ৮০০ একর জমি ছিল। এর মধ্যে যমুনার ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে প্রায় ১০০ একর। এক শ্রেণির ভূমিদস্যু রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের কতিপয় কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে আরো বেশকিছু জমি এরই মধ্যে দখল করে নিয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ও কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল এলাকায় বেহাত হয়েছে আরো কিছু জমি। অবশ্য গত ৯ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামতৈল রেল স্টেশনের কিছু জমি থেকে ২ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রায়পুর, ভূতেরদিয়ার, ভাঙ্গাবাড়ি, পুঠিয়াবাড়ি ও রানীগ্রাম মৌজায় সবচেয়ে বেশি রেলের জমি বেদখল রয়েছে বলে জানা গেছে।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (স্টেট অফিসার) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘দক্ষ জনবলের অভাবে ভূমি দেখাশুনা ও মামলার তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। ভূমি সংক্রান্ত অনেক রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যত দ্রুত সম্ভব ভূমি সংক্রান্ত রেকর্ডগুলো উদ্ধার করা হবে। রেকর্ড উদ্ধারে প্রয়োজনে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের ভূমি জরিপ বিভাগের সহায়তা নেওয়া হবে। তবে যে বা যারা রেলওয়ের ভূমি অবৈধ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে বিভাগের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম সরকার বলেন, সিরাজগঞ্জ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগের দক্ষ জনবলের অভাবে মামলা তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। ‘ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত হুকুমদখলের কাগজ, গেজেট, এলএ প্লান নকশা ছয় মাস ধরে লিখিতভাবে চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। মামলার বিল দাখিলের পর অর্থ প্রাপ্তিতে বছরের পর বছর লেগে যায়।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগের আইন কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে রেল বিভাগের মামলা সংক্রান্ত প্রয়োজনে ঢাকায় হাইকোর্টে যেতে হয়। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব জেলার মামলা কার্যক্রম একই দপ্তর থেকে তদারকি করায় রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ ও মামলা দেখাশুনা করা সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া ভূসম্পত্তি বিভাগ থেকে যথাসময়ে মামলা সংক্রান্ত কাগজ না পাওয়ায় স্থানীয় আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াও সম্ভব হয় না।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক বলেন, ‘অব্যবহূত থাকার ফলে রেলওয়ের কিছু জায়গা বেদখলে রয়েছে। কেউ কেউ জাল কাগজ তৈরির মাধ্যমে মামলা-মোকদ্দমা করে রেলওয়ের জমি নিজেদের নামে ডিগ্রি করে নিচ্ছেন। তবে আগামীতে সিরাজগঞ্জে একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন করার জন্য রেললাইন স্থাপন করা হবে এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সরাসরি রেললাইন স্থাপন করা হবে। এসব কাজে রেলওয়ের সব জমি প্রয়োজন হবে। তখন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।’