মির্জাপুরে যানবাহন আটকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৫

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে অটোরিকশা, সিএনজি, পিকআপ এবং মালবাহী ট্রাক আটকিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দেওয়ায় ৭০-৮০টি অটোরিকশা, সিএনজি, পিকআপ ভ্যান এবং মালবাহী ট্রাক দীর্ঘ দিন ধরে মহাসড়কের ওপর আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

গাইবান্ধা থেকে এসে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে এনজিও থেকে ৭০ হাজার টাকা লোন নিয়ে অটোরিকশা চালান জাহিদুর রহমান। একটি চক্র তার অটোরিকশাটি আটক করে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ধারদেনা করে ৫ হাজার টাকা দিয়ে আকুতি-মিনতি করে বুধবার অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। 

ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মালবাহী ট্রাক চালক বগুড়ার আলিম মিয়া ও পিকআপ ভ্যান চালক সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে তাদের দেড় থেকে দুই হাজার টাকা চাঁদা গুনতে হচ্ছে। চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক সংগঠক মীর শরীফ মাহমুদ এবং ১০নং গোড়াই ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে এক ওয়ার্ড মেম্বার মো. আদিলুর রহমান আদিল খান বলেন, ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানবাহন চালকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। অসহায় ও নিরীহ শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি।’

গোড়াই হাইওয়ে থানার (ওসি) মো. জাহিদুল আলম বলেন, ‘মহাসড়ক দিয়ে তিন চাকার কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না হাইকোর্টের রুল রয়েছে। কী কারণে অটোরিকশা-সিএনজি আটক রয়েছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা-গাজীপুর-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক (অঞ্চলের) দায়িত্বপ্রাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. আলী আহাদ খান বলেন, ‘রাস্তায় যে সব অবৈধ যানবাহন চলাচল করে হাইওয়ে পুলিশ শুধু ঐ সব যানবাহনই আটক ও মামলা করতে পারে। কেউ যদি কোনো চালকের নিকট থেকে অবৈধভাবে চাঁদা নিয়ে থাকে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’