বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এক সময় সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেরপুর জেলার নজরকাড়া অবদান থাকলেও বর্তমানে তা স্থবির হয়ে পড়েছে। সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার সুবিধার্থে আশির দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে এর পরিচালনার জন্য নব্বইয়ের দশকে জেলা প্রশাসককে পদাধিকার বলে সভাপতি করে জেলা বিভিন্ন গুণী সংস্কৃতিসেবীদের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি নির্বাচিত কমিটি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সে কমিটির মেয়াদান্তে দীর্ঘ সময় পার হলেও আর কোনো নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়নি। পরবর্তীতে কমিটিতে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতিশীল গুণী শিল্পী সাংস্কৃতিক সংগঠক সম্পৃক্ত না হওয়ায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার তমাল বোস জানান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা নিয়মিতভাবে পালন করে থাকে। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে সংগীত, নৃত্য, নাটক প্রতিযোগিতা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়। নাচ, গান, নাটক বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে থাকে। তিনি জানান, অচিরেই শিল্পকলা একাডেমিতে চারুকলা বিভাগ খোলা হবে।
জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী তপন সারোয়ার ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তার মতে দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকলা একাডেমির নতুন কোনো কমিটি গঠন না হওয়ায় এবং সৃষ্টিশীল, প্রতিভাবান মেধাসম্পন্ন সংস্কৃতিসেবীদের সম্পৃক্ত করতে না পাড়ায় জেলায় সুস্থ রুচিশীল সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে না। সেই সঙ্গে সংস্কৃতিকে আমজনতার দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে না পারায় জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এখন সরকারি বেসরকারি অফিসের সভাকক্ষ, বাংলো বা ড্রইংরুম ভিত্তিক হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে, উন্মুক্ত প্রান্তরে বা খোলামঞ্চে এখন আর সংস্কৃতির আসর বসে না।
