শ্রমবাজারে নারীর অংশ না বাড়ার কারণ পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪২

শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ তেমনভাবে বাড়ছে না। এর কারণ পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা আর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে নারীদেরও মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। বুধবার বিকালে মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে ‘পেশাজীবী নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় বিভিন্ন পেশার নারীরা তাদের পেশাগত জীবনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে—নারীর প্রতি সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে নারীকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা, সাইবার ক্রাইম, শিশুর প্রতি নির্যাতন, গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতা, এসব বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ করেন বক্তারা। 

সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, আমাদের সকল সমস্যার পেছনে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা দায়ী। এছাড়াও মনস্তাত্ত্বিক, দৃষ্টিভঙ্গিগত, পারিবারিক সমস্যা রয়েছে। পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে নারীদেরও মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীরা দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে তাদের অবদান রেখে যাচ্ছেন। উচ্চশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত নারীরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পেশায় নিজেদের যুক্ত করতে, নিজেদের যোগ্য করে তুলতে একজন নারীকে পরিবারের সঙ্গে, জেন্ডার বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থার সঙ্গে, চলার পথে অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অনেক নারীরা আবার পরিবার সামলানোর জন্য, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা না থাকায় চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সভায় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম বলেন, আমরা কর্মজীবী পেশাজীবী বোনদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদে কাজ করার অনুকূল পরিবেশ, রাস্তায় চলাচলে নিরাপত্তার অভাব, সন্তান লালন-পালনের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, গণপরিবহনে নারীবান্ধব পরিবেশ ও ব্যবস্থা, কর্মজীবীদের জন্য হোস্টেল সুবিধা এখনো তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের তথ্যমতে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও শ্রমবাজারে তেমনভাবে বাড়ছে না। আমরা মনে করি, শ্রমবাজারে নানা অসুবিধা ও সামাজিক পারিবারিক ক্ষেত্রেও নারীর অধঃস্থনতা এর মূল কারণ।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, অধ্যাপক হান্নানা বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ, সীমা মোসলেম, সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু প্রমুখ। এছাড়া সংগঠক, ডাক্তার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, এনজিওকর্মী, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার নারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন ইতি।