>> আবু নাঈম
বিতর্ককে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে চান মারুফ, শান্ত ও তন্বী। বিতর্কের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতিগুলোকে চিহ্নিত করে সমাধান দিতে পারার একটা ক্ষেত্র তৈরি করার স্বপ্ন দেখেন তারা।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অরগানাইজেশন (জুডো)-এর সদস্য ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, মারুফ মোজাম্মেল ও তাজরীন ইসলাম তন্বী। সম্প্রতি এই তিন বিতার্কিকের সাথে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ছাদে। উঠে আসে তাদের বিতর্ক জগতের নানা গল্প ও অর্জনের কথা। শুরুতেই গত ২৪ নভেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলকে পরাজিত করে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে বিজয়ী হওয়ার প্রসঙ্গ। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে তর্কযুদ্ধে জয়ী হয় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অরগানাইজেশন (জুডো)। চূড়ান্ত পর্বের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন মারুফ মোজম্মেল। দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ স্কুল-কলেজ কখনো বিতর্ক করেননি। তবে আবৃত্তি করতেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর যুক্ত হন বির্তকে। ‘বিতর্ক তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে আরও সহজ করেছে। কারণ বিতর্ক করতে অর্থনীতি, সমাজ বিজ্ঞান, সরকার ও রাজনীতি, প্রযুক্তি ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হয় তাকে। একই সাথে প্রয়োগ করতে পারেন দর্শনকেও। ফলে বিতর্কের মঞ্চে তিনি নিজেকে বিশ্বের ছাত্র বলে মনে করেন।’ এভাবেই বলছিলেন মারুফ।
ছোটবেলা থেকেই বই পড়া, সিনেমা দেখা, গান শোনা, বিজ্ঞান বিষয়ে জানার ইচ্ছাটা কারণে রসায়ন বিভাগে পড়েও বিতর্ককে আলাদা করে দেখেন না তন্বী। নাটোরের কাদিরাবাদ ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্কের শুরু। মফস্বলে বিতর্ক করাটা অনেক কঠিন হলেও তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন ২০০৮ সালের জাতীয় শিশু বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। বর্তমানে জুডোর এই প্রচার সম্পাদকের স্বপ্ন ছিল জাবির মুক্তমঞ্চে দাঁড়িয়ে বিতর্ক করে ট্রফি জেতার। পূরণ হয়েছে সে স্বপ্ন। ‘একটি দলকে বিজয়ী হতে হলে দলের মধ্যে ভারসাম্য ও বোঝাপড়া থাকতে হবে। আর আমাদের দলের তিনজন তিন জায়গায় দক্ষ বলেই চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি।’ বলছিলেন হলিক্রস কলেজের বিতর্ক সংগঠনের সাবেক এই সহ-সভাপতি। বিতর্ক নিজের বাইরে গিয়ে ভাবতে ও অন্যের মতামতকে মূল্যয়ন করতে শেখায়। বিতার্কিকরা পৃথিবীকে অনেক ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তাদের ঐক্যই সমাজের অসঙ্গতি দূর করতে পারে। দর্শন বিভাগে পড়ার কারণে বিতর্কের এই জায়গাটা আরও আনন্দদায়ক মনে হয় তার। ইচ্ছে করে নিজের যুক্তির ক্ষুরধারে বিদ্ধ করবেন প্রতিপক্ষের যুক্তিকে। সেই ইচ্ছাকে লালন করতে যুক্ত হন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অরগানাইজেশনে। এভাবে কখন যে বিতর্ক শুরু করা হয়েছে তা খেয়াল করতে না পারলেও একে একে আন্তঃবিভাগ, আন্তঃহল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রায় সবগুলো বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রায় সবগুলোতেই এনেছেন চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স আপের ট্রফি। সবসময় চেষ্টা করেন পড়াশোনা ও বিতর্ক—একটির কারণে যেন অন্যটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ‘বিতর্ককে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যুক্তিবাদী মানুষ তৈরি করে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দান করা। বিতর্ক আসলে জেতার জন্য নয়, সত্যকে অন্বেষণ করার জন্য। জোর গলায় চিত্কার দিয়ে কথা বলতে পারলেই সেটা বিতর্ক হয় না, যুক্তির চর্চাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করে সমাধান দিতে পারি বিতর্ক।’ এভাবেই
বলছিলেন শান্ত।
