এবার পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকপঞ্জি!

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৪

আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) করতে চায় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। তবে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ধর্ম ও ভাষার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি মানবেন না। এই ইস্যুতে এখন মুখোমুখি অবস্থানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।

গত ৩১ আগস্ট ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে এনআরসির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঐ তালিকায় বাদ দেওয়া হয়েছে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষকে। আসামের পর বিজেপি সরকারের নজর এবার পশ্চিমবঙ্গে। আসামে এনআরসি তালিকা প্রকাশের দিনই বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা ভেবে পশ্চিমবঙ্গেও চালু করা হবে এনআরসি। এরপর গতকাল কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ২ কোটি মুসলিম অনুপ্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ১ কোটি ভারতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এনআরসি করে এদের তাড়ানো হবে।

বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের পর মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ২ কোটি কেন দুই জনকে তাড়াতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এটা হতে দেবে না। কলকাতার শ্যামবাজারে এনআরসি-বিরোধী এক মিছিলের পর মমতা বলেন, বিজেপি আবারও বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত করছে। মানুষ কতবার পরাধীন হবে। পশ্চিমবঙ্গ ভাগের চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না। ধর্ম, ভাষার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি মানব না। মমতা আরো বলেন, পুলিশ দিয়ে আসামকে চুপ করালেও পশ্চিমবঙ্গ চুপ থাকবে না। আগুন নিয়ে খেলবেন না। আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের জন্য বন্দিশালা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি মানুষের জন্য কত বড়ো বন্দিশালা করবে বিজেপি। তার দাবি, ভারত জুড়ে আর্থিক মন্দা চলছে। এই মন্দা থেকে মানুষের নজর সরাতেই এনআরসি নিয়ে খেলছে বিজেপি। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এনআরসি-বিরোধী প্রস্তাব এনেছে তৃণমূল  সরকার। এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে সিপিএম ও কংগ্রেস।

মমতার বক্তব্যের পালটা জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবেই। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেই পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হবে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে করিডর করে ঢুকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে অনুপ্রবেশকারীরা। জম্মু-কাশ্মীরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প হয়েছে। এরা কি আকাশ থেকে উড়ে এসেছে? তাদের জন্য মমতার এত দরদ কেন? বিজেপি এমপি লকেট চ্যাটার্জি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্তত ১ কোটি অনুপ্রবেশকারী বের হবেই। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে কলকাতায় এসে বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানিও পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালুর পক্ষে মত দেন।

এদিকে আসামে এনআরসির পর পার্শ্ববর্তী রাজ্য মেঘালয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। পূর্ণ তালিকা প্রকাশের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ২১০ জনকে দুই রাজ্যের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেছেন, তাদের আসামে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।