আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর উত্থাপিত একটি বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি দিবসে সাবের হোসেন চৌধুরীর আনা প্রস্তাবটি ছিল, ‘সংসদের অভিমত এই যে, সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ওপর প্রচলিত অ্যাড-ভেলোরাম পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপ (স্পেসিফিক ট্যাক্স) করা হউক।’ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এর ওপর সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে সাবের হোসেন চৌধুরী তার প্রস্তাবটি প্রত্যাহারে সম্মত না হলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তা কণ্ঠভোটে দেন। বেশিরভাগ সদস্য প্রথমে ভুলে প্রত্যাহারের পক্ষে না দিয়ে গ্রহণের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। পরে স্পিকার পুনরায় ভোটে দিলেও বেশিরভাগ সংসদ সদস্য তালগোল পাকিয়ে ফেলায় বিষয়টি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। তবে স্পিকার প্রত্যাহারের প্রস্তাব গৃহীত হলো বলে জানিয়ে দেন।
পরে এ নিয়ে আপত্তি তুলে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এই সংসদে একটি বাজে নজির স্থাপিত হলো। বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি গ্রহণের পক্ষে প্রথমে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ভোট দিলেও স্পিকার পক্ষপাতিত্ব করে পুনরায় ভোটে দেন। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিতে সদস্যদের হুইপিং করা হয়েছে। এটা তো এমন কোনো বিষয় নয় যে, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে সরকারের পতন ঘটে যাবে।’ এরপর ফ্লোর নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সংসদে সদস্যদের জাতীয়ভাবে অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এটা একটা বাজে দৃষ্টান্ত। পরে রুলিং দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি কোনো পক্ষপাতিত্ব করিনি। কারো অধিকারও ক্ষুণ্ন করা হয়নি। কোনো বিষয়ে যদি সংশয়ের সৃষ্টি হয় তাহলে দ্বিতীয়বার ভোটে দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে। আশা করি এ নিয়ে বিতর্ক এখানেই শেষ হলো।’
