প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে ডু সামথিং ফাউন্ডেশন

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫২

>> জুনায়েদ আল হাবিব

 

সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের সয়াধানগড়া এলাকার ছেলে ডা. নাজমুল। পেশায় চিকিত্সক হলেও পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন নানা রকম সামাজিক কার্যক্রম। চিকিত্সা বিজ্ঞানে অধ্যায়নকালে ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করলেও ভেঙে পড়েননি নাজমুল। বরং পরবর্তী পরীক্ষার মাঝের ছয় মাসকে কাজে লাগালেন। বাবার অনুপ্রেরণায় এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ঝুঁকে পড়েন বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে। একপর্যায়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও নদীর বুকে জেগে ওঠা দুর্গম চরের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায়, ছিন্নমূল শিশু ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’। একই সাথে সংগঠিত করেছেন একঝাঁক তরুণকে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন এমবিবিএস চিকিত্সক। সমাজের জন্য উদ্যমী উদ্যোক্তা, ও দক্ষ সংগঠক। বর্তমানে তিনি চিকিত্সা পেশায় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন এবং বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং করছেন।

ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের ইয়ুথ ফর দ্যা ন্যাশনসের উদ্যোগে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম, প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার প্রদান, শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, পুর্নবাসনসহ ইত্যাদি কাজ করে যাচ্ছেন। গত ৩০ নভেম্বর নীলফামারীর ডিমলার তিস্তার চরের টেপাখরিবাড়ি গ্রামের ৫ শতাধিক হত-দরিদ্রের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ বছর দুই হাজার মানুষকে শীতবস্ত্র দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। পর্যায়ক্রমে উত্তরাঞ্চলের বাকি জেলাগুলোতেও এ শীতবস্ত্র দেওয়া হবে।

কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রতিবন্ধকতার চিত্র তুলে ধরে ডা. নাজমুল বলেন, ‘কাজ করতে কখনো মিষ্টি, কখনো তিতা দুই রকমই লাগে। যাদের জন্য কাজ করি তাদের পরিবর্তন কামনা করি। অনেকে পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তন হলো মনে প্রশান্তি আসে। কিন্তু অনেকে পরিবর্তন হয় না। তখন মনে খুব কষ্ট লাগে। প্রতিকূলতা বলতে অনেক স্যাক্রিফাইস করতে হচ্ছে আমাদের। এই কাজের জন্য লোকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অর্থ সহায়তা চাওয়া, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করা এসব প্রতিটা ব্যাপার একদম চ্যালেঞ্জিং। তবে আগ্রহী তরুণ-তরুণী যেমন আছে, তেমনি অনাগ্রহীও আছে। তবে আগ্রহীদের সংখ্যাই বেশি।’ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা এবং কিছু সাধারণ মানুষের অর্থায়নে চলছে ফাউন্ডেশনটি। ‘টেক্সপ্রেগো’ নামক একটি বিদেশি বায়িং কোম্পানি, মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লায়লা পারভীন বানু, বিএসএমএমইউর ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানসহ বেশ কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থায়ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয় ফাউন্ডেশনটিকে। এ ছাড়াও তিনি অ আ ক খ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সেখানে অ্যাকটিভ সিটিজেনস হিসেবে কাজ করছেন। আগামীর পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানিয়ে ডা. নাজমুল ইসলাম বলছিলেন, আমাদের লক্ষ্য সারা বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্যের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা।’