প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যখন উন্নতি হয়, অগ্রগতি হয়, তখন দেশের কিছু মানুষ আছে তাদের পছন্দ হয় না। যারা সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, যারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল তারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, করেই যাবে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে নিয়ে যাব। তবে দেশবিরোধী এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে নানা ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের এই চলার পথ কিন্তু মসৃণ ছিল না। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নি-সন্ত্রাস, পুড়িয়ে পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ ছাড়াও বর্তমানে সংসদে যারা বিরোধী দল (জাপা) তারাও বিএনপি-জামায়াত জোটের হাতে চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছে। তারা (বিএনপি) যেভাবে আমাদের অত্যাচার-নির্যাতন ও হত্যা করেছে, সেই তুলনায় তাদের তো আমরা কিছুই করছি না, করিনি। কারণ আমরা দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত। আমরা দেশের মানুষের কল্যাণ করার জন্য ব্যস্ত, সময় দিই। সেই চেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি।’ দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন একটা নিজস্ব স্থান করে নিয়েছে। স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে সারা বিশ্ব তা দেখছে। এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। ইনশাল্লাহ দেশের মানুষকে আমরা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেব, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।’ দেশের প্রত্যেক এলাকায় সরকারের গৃহীত উন্নয়নকাজগুলো যেন সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য নিজ নিজ এলাকায় সংসদ সদস্যদের উন্নয়নকাজগুলো তদারকির আহ্বান জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ৩০তম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ। গত ১০ বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগের ওপরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। যার সুফল দেশের মানুষ ভোগ করছে।’
বিদ্যুত্ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। ক্ষমতা ছাড়ার সময় ৩৩০০ মেগাওয়াট রেখে এলেও আট বছর পর পুনরায় ক্ষমতায় এসে দেখলাম উত্পাদন বাড়েনি, বরং ৩৩০০ মেগাওয়াট থেকেও কমে গেছে। সেই ৩৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ থেকে গত ১০ বছরে এখন বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক ইউনিট বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ২৬ টাকা। কিন্তু আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে মাত্র তিন-চার টাকা নিচ্ছি। এক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ল কোথায়? এলএমজি গ্যাস আমদানি করে বিতরণ করতে সরকারের খরচ হয় ৬০ টাকা, কিন্তু গ্রাহককে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১২ টাকায়। যে দামে আমরা বিদ্যুত্ উত্পাদন করছি, তার চেয়ে অনেক কমমূল্যে আমরা বিক্রি করছি। খরচের টাকাও নিচ্ছি না। তা সত্ত্বেও কেন সমালোচনা? কেন আন্দোলন? তাহলে বিদ্যুত্ উত্পাদনের যে খরচ তা-ই দিতে হবে। আমরা লাভ করতে চাই না, তবে উত্পাদন খরচ তো দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সবাই বিদ্যুত্ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বেশি খরচ পড়বে না। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত হোক।’ ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শুধু সরকার কেন, দেশের মানুষকে নিজের বাসাবাড়িসহ নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের করতে হবে। সরকার থেকে যা যা করার তা করা হবে। তবে দেশের মানুষকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।’ তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এত সুন্দরভাবে হচ্ছে, পুলিশ বাহিনী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। অথচ বিএনপি এই পুলিশ বাহিনীর ২৬ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। ৫০০ সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সারা দেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলছি, যার সুফল গ্রামের মানুষ পাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’
