মহাকাশে বাসযোগ্য গ্রহে পানির সন্ধান পেয়েছে বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৩৫

একটি তারাকে প্রদক্ষিণকারী এক গ্রহ বসবাসযোগ্য বলে প্রথমবারের মতো প্রমাণ পেয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। এই গ্রহ যে কক্ষপথে ঘুরছে তাও বসবাসযোগ্য এলাকার মধ্যে বলে তারা বলছেন। এই আবিষ্কারের ফলে কেটু-১৮বি নামের গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা নতুন করে কাজে নামবেন। ১০ বছরের মধ্যে নতুন মহাকাশ টেলিস্কোপ পরীক্ষা করে দেখতে পারবে কেটু-১৮বি গ্রহের আবহাওয়ামণ্ডলে প্রাণিদেহ থেকে উদ্ভূত গ্যাস উত্পাদিত হতে পারে কি না। নেচার অ্যাস্ট্রনমি নামে একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে এই গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

প্রধান বিজ্ঞানী লন্ডনের প্রফেসর জিওভান্না টিনেত্তি এই আবিষ্কারকে ‘বিস্ময়কর’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো মহাকাশের যে এলাকা বসবাসযোগ্য সেই এলাকার মধ্যে এক গ্রহে আমরা পানির অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম। মহাকাশের ঐ স্তরের যে তাপমাত্রা তাতে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব।’ 

নতুন এই গ্রহের আকার পৃথিবীর দ্বিগুণেরও বেশি। গ্রহের হিসাবে এটি মহাপৃথিবী বা সুপার আর্থ হিসেবে বিবেচিত। এখানকার তাপমাত্রা শূন্য থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অর্থাত্ যে তাপমাত্রায় পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে।

কে-টু-১৮বি গ্রহের দূরত্ব পৃথিবী থেকে ১১১ আলোকবর্ষ দূরে। অনুসন্ধানী মহাকাশযান পাঠানোর জন্য যা খুবই দূরে। সামনে এখন একমাত্র পথ হলো ২০২০-এর দশকে নতুন প্রযুক্তিসম্পন্ন মহাকাশ টেলিস্কোপ উদ্ভাবন করে তা সেখানে পাঠানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা। লন্ডনের ইউসিএল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ইঙ্গো ওয়াল্ডম্যান বলেন, এই যান ঐ গ্রহের আবহাওয়ামণ্ডল পরীক্ষা করে দেখবে সেখানে কোনো রকম জীবিত প্রাণী গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে কি না।

বৈজ্ঞানিক দলের আরেকজন ড. সিয়ারাস বলেন, সৌরজগতের বাইরে বাসযোগ্য একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে পানির অস্তিত্ব আবিষ্কার রীতিমতো উত্তেজনাকর।