মীর্জাগঞ্জে নৌকা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৭

মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পলাশী রানী স্থানীয় আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা-বাবা তিন বোন ও এক ভাইয়ের অভাবের সংসারে পড়ালেখার পাশাপাশি বাবা নিরঞ্জন গাইনকে নৌকা বানানোর কাজে সহযোগিতা করে পলাশী। এমনটিই দেখা যায় মীর্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কিসমত রামপুর গ্রামে। নৌকা তৈরি করে           সংসার চালানোর কাজে কর্মব্যস্ত অনেক পরিবার। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে এ নৌকা তৈরির প্রতিযোগিতা দেখা যায়।

মীর্জাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তরে নিউমার্কেট বাজার হয়ে ভিকাখালী যাওয়ার পথে শ্রীমন্ত নদীর তীরে কিসমত রামপুর গ্রামে যুগযুগ ধরে তৈরি হয় এই নৌকা। এখানে দুই ধরনের নৌকা তৈরি হয়। ৮ থেকে ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের নৌকা বিক্রি করা হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ১০ থেকে ১১ ফুট দৈর্ঘ্যের নৌকা বিক্রি করা হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়।

নৌকার কারিগর নিরঞ্জন গাইন জানান, পরিবারের সবাই মিলে বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত নৌকা তৈরি করে বিক্রি করেন। সপ্তাহে প্রতিটি পরিবার গড়ে ৮-১০টি নৌকা তৈরি করতে পারেন। নৌকা বিক্রির জন্য পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারে নিয়ে যেতে হয়। এ বাজারে বরিশাল, নলছিটি, বাকেরগঞ্জ, মীর্জাগঞ্জ, দুমকী ও বাউফলসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষক ও মাছ চাষিরা নৌকা কিনতে আসেন।

মাধবখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ কৃষি ও মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে আউশ ও ইরি ধানের ফসল নৌকা ছাড়া ঘরে তোলা সম্ভব হয় না। তাই নৌকা তৈরির কারিগরদের আর্থিক সহযোগিতায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ থাকলে এ শিল্পটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব।