গ্রীষ্মকালীন টম্যাটো উত্পাদনে বাম্পার ফলন
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় এবার গ্রীষ্মকালীন টম্যাটো চাষে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। তিত বেগুন চারার কাণ্ড এবং বারি-৮ জাতের টম্যাটোর চারার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টম্যাটো উত্পাদনে বাম্পার ফলন হয়েছে। কুমিল্লা বিএডিসি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে আগাম টম্যাটো চাষ করে ভালো ফলন ও অধিক দাম পেয়ে বেশ খুশি জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। এর আগে ঐ উদ্যানে টম্যাটো ও আলু চারার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টম্যাটো (একই গাছের মাটির নিচে আলু ও মাটির ওপরে টম্যাটোর ফলন) চাষ উদ্ভাবন দেশজুড়ে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।
জেলার বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুর বিএডিসি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় আবিদপুর গ্রামের আলী আকবর, ডুবাইরচর গ্রামের আমিন মিয়াসহ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বনজ কাঁটাযুক্ত তিত বেগুন গাছের কাণ্ড ও টম্যাটোর ২০ দিনের চারার ক্রসের মাধ্যমে আগাম জাতের টম্যাটো চাষ করেছেন।
কৃষক সোলেমান মিয়া জানান, ‘এ বছর জুন মাসের ১৪ তারিখে তিত বেগুন ও টম্যাটোর চারার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে ১০ শতক জমিতে আগাম জাতের টম্যাটোর চাষ করেছি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। চারা রোপণের সময় মধ্য জুন থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত এবং চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। বারি-৮ জাতের প্রতিটি ফলের গড় ওজন ১০০-১১৫ গ্রাম। টম্যাটোর ত্বক লাল রঙের, ফল বেশ মাংসল হয়।’
কৃষক আলী আকবর জানান, ‘শীত মৌসুমে সবসময় টম্যাটোর দাম ভালো পাওয়া যায় না, কখনো প্রতি কেজি ৫ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়। কিন্তু এই প্রযুক্তির আগাম জাতের প্রতি কেজি টম্যাটো এখন পাইকারি বাজারে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছি। ১০ শতক জমিতে টম্যাটো চাষে খরচ পড়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা, বিক্রি হবে অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।’
বিএডিসি কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক মো. নিগার হায়দার খান বলেন, ‘এই প্রযুক্তির গ্রীষ্মকালীন টম্যাটো উচ্চ তাপমাত্রায় ফুল ও ফল ধারণে সক্ষম। তাই এই টম্যাটো চাষে জমিতে ছাউনির প্রয়োজন হয় না এবং কীটনাশকও ব্যবহার কম হয়। প্রতি শতকে ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি ফলন হয়। কাঁটা বেগুনের কাণ্ড ও টম্যাটোর চারার ক্রসের মধ্য দিয়ে উদ্ভাবন হওয়ায় পোকার আক্রমণ অনেক কম এবং ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধী। এতে ফল বিষমুক্ত, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়। কৃষকরা এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে আগাম জাতের টম্যাটোর চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন। এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষকরা আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হবেন।’
