রংপুর সদর উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৫টি ওয়ার্ড সংবলিত রংপুর বিভাগের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ভিভিআইপি আসন হলো—রংপুর-৩ আসনটি। এ আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৬ই জুলাই এরশাদের মৃত্যুর পর এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার। এরশাদের এই শূন্য আসনে আগামী ৫ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গৃহবিবাদের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টির ৩৩ বছরের ইতিহাস।
সাড়ে চার লাখ ভোটারের এ নির্বাচনী আসনটি ৩৩ বছর ধরে দখলে রয়েছে জাপার। এরশাদের অবর্তমানে উপনির্বাচনের সমীকরণ কী হতে পারে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় ৯ মাস চার দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ উপনির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এই প্রধান তিন রাজনৈতিক দল নতুন করে নিজেদের পরিকল্পনা করছে। শেষ পর্যন্ত যেই জিতুক রংপুরের রাজনীতিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য নতুুন কিছু ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তিন দলই আলাদা করে তাদের প্রার্থী দিয়েছে।
এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ আসনের বহু অংশীদার জুটে যায়। এ আসনে হিস্যা কোন পক্ষে যাবে এবং কেন্দে ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা কীভাবে হবে—এ নিয়ে দলের দুই প্রধান নেতা জি এম কাদের ও রওশন এরশাদ বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ভাঙনের শঙ্কা দেখা দেয় দলে। এ অবস্থায় শীর্ষ কয়েকজন নেতার তত্পরতায় ক্ষমতার ভাগাভাগি হয় জাতীয় পার্টিতে। সমঝোতা হয় রংপুর-৩ আসন মানে এরশাদের শূন্য আসনে জাতীয় পার্টির উত্তরসূরি কে হচ্ছেন তা নিয়ে। স্থানীয় জাপার প্রবল বিরোধিতা ও অসহযোগিতার হুমকির পরও এরশাদ-রওশনপুত্র সাদ এরশাদকে জাপার প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। রংপুর জাপার এই বিদ্রোহের কেন্দ্রে রয়েছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগর জাপার সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সাদ এরশাদকে প্রার্থী করা হলে তার সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হবে ঘোষণা করেন মহানগর জাপার প্রতাপশালী এই নেতা।
লাঙ্গলের প্রার্থী না হতে পেরে স্বতন্ত্রপ্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার এই উপনির্বাচনে জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রংপুরের সন্তান ও এরশাদের পরিবারের সদস্য—এ দুই সেন্টিমেন্ট তার দিকেই। আর মেয়র মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতাদের সমর্থন পেলে তার জনসমর্থনের পাল্লা অনেকটা ভারী হবে তার দিকেই। এরই মধ্যে আসিফকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ যাতে সেখানে প্রার্থী না দেয় এ রকম সমঝোতার চেষ্টাও করেছে কেন্দ ীয় জাপা। তবে সেটা এখনো সমঝোতা হয়নি। আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য তাই একেবারেই নতুন সমীকরণ নিয়ে হাজির হচ্ছে। ৩৩ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম লাঙ্গল এ আসনে একটা অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়েছে।
