কম কাজ করার সুবিধাও আছে!

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

বর্তমান মানুষ উপার্জনমুখী কাজ পাবার জন্য পাগলপ্রায়! কিন্তু গবেষকরা বলছেন, পয়সার বিনিময়ে চাকরি করা সক্রিয় জীবনযাপনের একমাত্র উপায় নয়। উদাহরণস্বরূপ, জাপানিদের ধারণা ‘ইকিগাই’ চর্চা মানুষকে জীবনের আনন্দ খোঁজার জন্য এমন সব কাজের ওপর মনোনিবেশ করতে উত্সাহ দেয় যা তাকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করবে। ২০১০ সালে জাপানি নারী এবং পুরুষদের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, তাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ‘ইকিগাই’ মেনে কাজ করে। ইকিগাই বলতে বোঝায় ব্যক্তির শখ, সম্পর্ক এবং কিছু কাজ যার জন্য পারিশ্রমিক মেলে না। তবে তাদের অবসরকে অর্থবহ এবং আনন্দদায়ক করে তোলে।

বর্তমানে, নারীদের দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে, তবে তাদের সেই কাজকে বেতনভোগী কর্মক্ষেত্রগুলোর মতো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। যেমন:বাচ্চাদের দেখাশোনা করা, বয়স্ক পিতা-মাতার খেয়াল রাখা এবং ঘরোয়া, সামাজিক এবং সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে করতে তাদের অনেক সময় লেগে যায়। বেতনভুক্ত কাজের বোঝা কমিয়ে এই বেতনহীন কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং শক্তি বের করতে হচ্ছে—যেটা এখন অনেক দেখা যায়। লন্ডনের বিপণন ও যোগাযোগ পরামর্শদাতা আলেকজান্দ্রা হার্টনাল খেয়াল করেছেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে যাওয়ার পর তার আরাম-আয়েশ বিদায় নিয়েছে। জীবনটা যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি সপ্তাহে চার দিনের বেশি কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বাকি সময়টা ব্যয় করেন তার পছন্দের কাজ করে। আর সেটি হলো পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়ে বিনা পারিশ্রমিকে গ্যালাপাগোস কনজারভেশন ট্রাস্টের হয়ে যোগাযোগের কাজ করেন তিনি। এই অংশটি তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জুড়ে গেছে। এখন সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। হার্টনাল এটাও স্বীকার করেন যে আর্থিক নিরাপত্তা তার স্বেচ্ছাসেবার কাজকে সম্ভব করে তুলেছে। যে পরিমাণ মানসিক তৃপ্তি তিনি এখন পাচ্ছেন তা আগে কখনো পাননি।

গবেষকরা বলেছেন, যদি আমরা কাজমুক্ত একটা দিন পাই, তাহলে আমাদের অনুশীলনের সময় হবে; আমরা সিনেমা, থিয়েটার বা সার্কাস ঘুরে দেখতে পারব। আমাদের মোটরবাইক এবং স্কুটারগুলো নিয়ে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে আসতে পারব এবং আমাদের বাগানে কাজ করতে পারব। উপার্জনমুখী কাজ কম করার এসব সুবিধা আছে, যা অবিশ্বাস্যভাবে জীবনমুখী উপকারিতা বয়ে আনে। পাওয়া যাবে সুস্থ শরীর ও মন। বেড়ে যাবে আয়ু। অঢেল সম্পদ নিয়ে অসুখী জীবনযাপনের চেয়ে সীমিত সম্পদের মালিক হয়ে সুখী থাকার গুরুত্ব বেশি।