গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম রেলক্রসিং এলাকায় মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ছয়তলা কারখানা ভবনের ছয়তলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে কারখানার গুদামের মজুত করা বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী শামিম বলেন, শুক্রবার কারখানা বন্ধ ছিল। ভোরে হঠাত্ করে আগুন লাগলে আমরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তারা আসার আগেই আগুন পাশের পশ্চিমদিকের ভবনের ছয়তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির ষষ্ঠ তলায় কারখানায় তৈরিকৃত পণ্যের গুদাম। সেখানে তৈরি ফ্রিজ, টেলিভিশন, রাইস কুকারসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত ছিল।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক মো. মামুনুর রশীদ জানান, কারখানার ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, পরে তা পাশের আরেকটি ছয়তলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে গাজীপুরের জয়দেবপুর ইউনিট যোগ দিলেও আগুনের ভয়াবহতা দেখে আগুন নেভাতে যোগ দেয় শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, টঙ্গী ও ঢাকার উত্তরা এবং সদর দপ্তরের ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিটের কর্মীরা। আগুন ছয়তলায় থাকায় নিচ থেকে পানি দিতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে সদর দপ্তর থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টেন টেবিল ল্যাডার গাড়ি এসে ছয়তলা সমান উঁচু থেকে পানি দিয়ে আগুন নেভাতে সাহায্য করে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘কারখানাটিতে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পাশের মার্কওয়্যার কারখানার পুকুর থেকে পানি ব্যবহার করে আমাদের কাজ চালাতে হয়েছে। তাছাড়া কারখানার তিনটি সিঁড়িতেই মালামাল স্তূপ করে রাখায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ভবন দুইটির পাশে বিশাল প্লাস্টিকের গুদাম। সেখানে আগুন লাগলে পরিস্থিতি হতো বহুগুন ভয়াবহ।’
ঘটনাস্থল পরির্দশন করে কল-কারখানা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. মোতালিব মিয়া বলেন, ‘ছয়তলার ওপরে গুদাম রাখার নিয়ম নেই। এখানকার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিম্নমানের। তাছাড়া এ কারখানায় নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হতো না। ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় তিন সপ্তাহ আগে কারখানাটিকে আমাদের তরফ থেকে নোটিশ করা হয়েছিল। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। এ কারণে কল-কারখানা অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা বিষয়ে জানতে চাইলে মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্স ও মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘ঐ সময় কারখানায় কাজ বন্ধ ছিল। কীভাবে ছয়তলায় আগুন লাগল তা আমরা এখনও বুঝতে পারছি না’।
প্রতিষ্ঠানের হেড অব মিডিয়া কে এম জি কিবরিয়া জানান, কারখানায় তৈরি করা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ষষ্ঠ তলায় মজুদ রাখা ছিল। সেখানে কত টাকার পণ্যসামগ্রী ছিল, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি তিনি।
