নারায়ণগঞ্জে আটক ছয় জনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরির মূল হোতা সৌদি প্রবাসী বায়েজিদ। আর পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত সৌদি দূতাবাস, সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও জন্মনিবন্ধনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক ছয় জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র্যাব।
অবৈধ জন্মসনদ দিয়েই পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা—দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করছিল র্যাব। অবশেষে গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় ২৫ হাজারের বেশি পূরণ করা জন্মসনদের ফরম পায় তারা। এ ঘটনায় আটক হয় ছয় জন। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র অবৈধভাবে জন্মসনদ তৈরি করে আসছে যার মূলহোতা সৌদি প্রবাসী বায়েজিদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের সদস্যদের কাছে তথ্য পাঠাত সে। বাংলাদেশ থেকে কাগজ তৈরি করে তারা পাঠাত বায়েজিদের কাছে। তারপর তৈরি হতো অবৈধ পাসপোর্ট। সৌদি আরবের দূতাবাস কর্মকর্তার সহায়তায় একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে এই কাজটি করা হতো বলে জানায়। জড়িত রয়েছে জন্মনিবন্ধন অধিদপ্তরের বেশ কিছু কর্মকর্তাও।
তারা বলেন, আমাদের একজন বস আছেন যার নাম মোস্তফা কামাল। তিনি জেদ্দা এম্বাসিতে কাজ করেন। উনিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
র্যাব জানায়, বিশেষভাবে পারদর্শী এ চক্রকে চিহ্নিত করা বেশ কঠিন। সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও জন্মনিবন্ধন কর্মকর্তারাও এ কাজে জড়িত বলে জানায় র্যাব। এই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামিও পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, এখানে সৌদি থেকে হাইকমিশনের সঙ্গে যে দালাল চক্রের পরিচয় আছে তারাই এই পথ দেখিয়ে দেয়। শুধু রোহিঙ্গারা নয়, ফেরারি আসামি যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারাও পাসপোর্ট করে পালিয়ে যাচ্ছে।
গত বুধবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত র্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকের নেতৃত্বে একটি টিম সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে ৪টি কম্পিউটার দোকানে ঐ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আশপাশের অন্য কম্পিউটার দোকান দ্রুত বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, নেত্রকোনার একটি ইউপির উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া, ঢাকার একটি সিটি করপোরেশনের মাঈন উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ, কাউন্সিলর সিল, সরকারি দপ্তরের সিল, ল্যাপটপ, মোবাইলফোন ছাড়াও ২ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
