মানিকগঞ্জে বিদ্যালয়ের দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:২৮

দুই-তিন লাখ টাকায় নামমাত্র মূল্যে নিজেদের নামে বরাদ্দ!

 মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্কেট নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইলিয়াস বক্সের নাম ভাঙিয়ে ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা তার ছেলেরা  ও  প্রধানশিক্ষক এই অনিয়ম করছেন, এমন অভিযোগ এলাকার অনেকের। এ ব্যাপারে উক্ত এলাকার মো. আমিনুর রহমান হকি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে।

আমিনুর রহমান হকির অভিযোগে বলা হয়, স্কুলটির প্রধানশিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের যোগসাজশে নির্মাণ কমিটির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান রতন মাস্টার (স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার বড়ো ছেলে), ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নবী নূর বক্স গোলাম (প্রতিষ্ঠাতার মেজো ছেলে) মার্কেটের নকশা পরিবর্তন করে অতিরিক্ত আরো চারটি দোকানের পজিশন নতুন করে উঠিয়েছে। অতিরিক্ত দোকানের পজিশন নামমাত্র টাকায় নির্মাণ কমিটির সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং প্রধানশিক্ষক নিজেরাই বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিধিমোতাবেক এলাকার অনেকেই দোকানের পজিশন বরাদ্দ চাইতে গেলে প্রধানশিক্ষক প্রথমে আবেদন নাকোচ করে দেন। পরে বিষয়টি জানাজানির ভয়ে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়।

সম্প্রতি দরগ্রাম বাজারে সিএনজিস্ট্যান্ডে পুরাতন মার্কেট ভেঙে স্কুলটির তিনতলা মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে। আগে যেখানে ১৫-১৬টি দোকান ছিল এখন সেখানে স্থায়ী স্থাপনা করার সময় আরো তিন-চারটি দোকান বাড়ানো হয়েছে। বিধিমোতাবেক টেন্ডার/খোলা ডাক ইত্যাদির মাধ্যমে অথবা আবেদনকারীদের মধ্য থেকে বাছাই করে ম্যানেজিং কমিটির সবাই সম্মতিক্রমে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্য ও কো-অপ্ট সদস্যদের কিছু না জানিয়ে মার্কেট নির্মাণ কমিটির সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি (নির্মাণ কমিটির সভাপতির আপন ছোটো ভাই) এবং প্রধানশিক্ষকের (সদস্য সচিব ম্যানেজিং কমিটি) নামে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। শোনা যাচ্ছে অতিরিক্ত দোকানগুলো তারা দুই-তিন লাখ টাকায় নামমাত্র মূল্যে নিজেদের নামে বরাদ্দ নিচ্ছেন অথচ সেসব দোকানের বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে সাত-আট লাখ টাকা বা তারও বেশি।

এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইলিয়াস বক্সের নাম ভাঙিয়ে এবং প্রধানশিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশে নির্মাণ কমিটির সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য (প্রতিষ্ঠাতার ছোটো ছেলে)সহ একই পরিবারের অন্যদের নামে-বেনামে স্কুল মার্কেটের বিভিন্ন পজিশনে ২০-২২টি দোকান বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নির্মাণ কমিটির সভাপতি রতন মাস্টার জানান, ‘আমার আর মাত্র দেড় বছর চাকরি রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির কাছে আমিও একটি দোকানের আবেদন করেছি। দোকান বরাদ্দের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির।’

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নবী নূর বক্স গোলাম জানান, ‘অতিরিক্ত দোকান আমরা এখনো বরাদ্দ দেইনি। আমরা সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে মিটিং করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্কুলের দোকান বরাদ্দ দেব।’

বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘অতিরিক্ত দোকানের পজিশন স্থাপনের বিষয়টি সত্য। পূর্বে এখানে টিনশেড মার্কেট ছিল। দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই। পেছনে জায়গা থাকার কারণে তিনটি এবং সামনে একটি দোকানের পজিশন বাড়ানো হয়েছে। এগুলো এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে একটি চক্র আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে যা সত্য নয়।’