ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ করে দিয়েছে সরকার :ড. মোশাররফ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৩৫

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ হওয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপিকে রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দলকে পুনর্গঠনের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের সুসংগঠিত করছি। এজন্য যে কাউন্সিল দরকার সেই কাউন্সিল করতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আমরা আমাদের দলে, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার চেষ্টা করছি। সেই চেষ্টাকেও সরকার নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। সেটিও বন্ধ করতে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। খালেদা জিয়া স্বৈরাচারকে হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আজ যারা ক্ষমতায়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। সেজন্য ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট ডাকাতি হয়ে যায়। একতরফা নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলে রাখা হয়েছে। বালিশ-পর্দা দুর্নীতি ছিঁচকে কাজ—আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের জবাবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বালিশ-পর্দা কাণ্ড থেকে বড়ো বড়ো দুর্নীতি যে সরকার করেছে ওবায়দুল কাদেরের কথায় সেটি প্রমাণিত হয়।

মহাসড়কের টোল আদায়ের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের টাকায় নির্মিত সড়কে জনগণ চলাচল করবে। সেখানে কেন তারা টোল আদায় করবে? আর সড়কে যেসব গাড়ি চলে সব গাড়িই তো সরকারকে ট্যাক্স দেয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণকে ভয় পেয়ে গেছে। তাই তারা টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম হচ্ছে, সুইস ব্যাংকে টাকা বাড়ছে। এ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম, তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।