সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ১৮ ওভারে ১৪৪/৫
বাংলাদেশ: ১৭.৪ ওভারে ১৪৮/৭
ফলাফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী
ইনিংসের দশম ওভার, ৬০ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কাঁপছে বাংলাদেশ। অনেকটা পিনপতন নীরবতা মিরপুর স্টেডিয়ামে। দলের বিপদের এমন ক্ষণেই অভিষিক্ত আফিফ হোসেন ধ্রুব ব্যাটিংয়ে আসেন। আট নম্বরে নেমে প্রথম বলেই মাদজিবাকে সোজা ব্যাটে চার মেরেছেন এই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সেটি যেন মুহূর্তেই গুমোট শের-ই-বাংলায় প্রাণের সঞ্চার করল। এক ঝলক তাজা সুবাতাস বইয়ে দিল বাংলাদেশ শিবিরে। ১৯ বছরের তরুণ আফিফের হাত ধরেই গতকাল পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙল বাংলাদেশ।
গত কয়েক মাসে ওয়ানডে, টেস্টে টানা ছয় ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ। ৭২ দিন পর কাঙ্ক্ষিত জয়ের আবেশে ভাসল টাইগাররা। অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিলেও গতকাল ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে তিন উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে দেড় ঘণ্টা বিলম্বের পর ম্যাচের দৈর্ঘ্য ঠিক হয় ১৮ ওভার। যেখানে টসে হেরে আগে ব্যাট করে রায়ান বার্লের হাফ সেঞ্চুরিতে পাঁচ উইকেটে ১৪৪ রান তুলেছিল জিম্বাবুয়ে। জবাবে আফিফের হাফ সেঞ্চুরিতে ১৭ দশমিক চার ওভারে সাত উইকেটে ১৪৮ রান করে স্বস্তির জয় পায় বাংলাদেশ। ২৬ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে আফিফ ম্যাচ সেরা হন।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২৯ রানে নেই চার উইকেট। তৃতীয় ওভারে লিটন দাস (১৯) বোল্ড হন। পরের ওভারে জার্ভিসের শিকার হন সৌম্য (৪) ও মুশফিক (০)। সৌম্য ক্যাচ দিয়েছেন মিড অফে, শরীরের দিকে এগিয়ে আসা শর্ট বলটা সামাল দিতে পারেননি মুশফিক। চাতারার বলে অধিনায়ক সাকিব (১) ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে।
মাহমুদউল্লাহ-সাব্বিরের ২৭ রানের জুটিতে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। মাহমুদউল্লাহকে (১৪) এলবির ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন বার্ল। পরে বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ক্যাচে সাব্বিরকে (১৫) ফেরান বার্ল। ৬০ রানে ছয় উইকেট পতনের পরই ত্রাতা হয়ে আসেন আফিফ। মোসাদ্দেককে নিয়ে তার পালটা আক্রমণেই ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ। চাপ কাটিয়ে লক্ষ্যের পথে আগাতে থাকে স্বাগতিকরা।
১১তম ওভারে শন উইলিয়ামসকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন আফিফ। পরের ওভারে মোসাদ্দেক হাঁকান দুটি ছক্কা। তাতেই রানে-বলের দূরত্বটা দৃষ্টিসীমায় চলে আসে। শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ১৫ রান। চাতারার ১৭তম ওভারে আসে ১০ রান। ২৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আফিফ। ভেঙে যায় আফিফ-মোসাদ্দেকের ৪৬ বলে ৮২ রানের জুটি।
দলকে জয় থেকে তিন রান দূরে রেখে আউট হন আফিফ। ২৬ বলে ৫২ রানের (৮ চার, ১ ছয়) ইনিংস খেলেন তিনি। আফিফের বিদায়ের পর দুই বলে ছয় রান তুলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন সাইফউদ্দিন। মোসাদ্দেক ২৪ বলে অপরাজিত ৩০ ও সাইফউদ্দিন অপরাজিত ছয় রান করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে জার্ভিস, চাতারা, মাদজিবা দুটি করে উইকেট পান।
এর আগে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে ব্রেন্ডন টেইলরকে (৬) আউট করে নিজের টি-২০ অভিষেক রাঙান তাইজুল ইসলাম। ক্রিকেট দুনিয়ার ১৬তম বোলার হিসেবে টি-২০তে প্রথম বলেই উইকেট পেলেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে মাসাকাদজা-ক্রেইগ আরভিনের ৪৪ রানের জুটি গড়লেও ৬৩ রানে পাঁচ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। আরভিন ১১, মাসাকাদজা ৩৪ রান করেন।
ষষ্ঠ উইকেটে রায়ান বার্ল ও মুতুমবোজির ৮১ রানের জুটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর পাইয়ে দেয় জিম্বাবুয়েকে। সাকিবের করা ১৬তম ওভারে ৩০ রান (৩ চার, ৩ ছক্কা) নেন বার্ল। তার ক্যারিয়ারের এটিই সবচেয়ে খরুচে বোলিং। ১৭তম ওভার শেষে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কারণে ৬ মিনিট বন্ধ ছিল খেলা। বার্ল ৩২ বলে অপরাজিত ৫৭ রান (৫ চার, ৪ ছয়), মুতুমবোজি অপরাজিত ২৭ রান করেন। বাংলাদেশের তাইজুল, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজ, মোসাদ্দেক একটি করে উইকেট নেন।
