মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ
এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌপথে ড্রেজিংয়ের মাটি রাখার জায়গা না থাকায় খননকাজ ব্যাহত হচ্ছে। মাটি রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা বা খননের পরে নদীর পাড় থেকে মাটি সরিয়ে না নেওয়া হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের খননকাজ। এতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে মোংলা বন্দরে। চ্যানেলটির মোংলা ও রামপাল অংশের প্রায় ২৬ কিলোমিটার নদীর দুপাড়ের জায়গা ভরাটের পর এখন নতুন করে পলি ফেলার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ঘনমিটার মাটি খনন করা হয়েছে। প্রথম দিকে বিআইডব্লিউটিএ ও বাংলাদেশ নেভির মোট পাঁচটি ড্রেজার সার্বক্ষণিক মাটি খনন কাজ করলেও বর্তমানে তিনটি ড্রেজারে কাজ চলছে। কিন্তু দ্রুত পলি পড়তে থাকায় বর্তমানে খননকৃত মাটি ফেলার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনিচ্ছুজামান বলেন, মোংলা-ঘাষিয়াখালী নৌ-চ্যানেলের নাব্য ঠিক রাখতে খনন করে মাটি নদীর দুপাড়েই ফেলা হচ্ছে। একই জায়গায় একাধিকবার এ মাটি ফেলায় উঁচু টিলার সৃষ্টি হয়েছে, যা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিনামূল্যে মাটি দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনো জায়গা পাচ্ছেন না তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চ্যানেলের দুই পাড়ে খননকৃত মাটি বারবার প্রতিস্থাপনের ফলে বেশ কয়েকটি স্থান টিলার মতো উঁচু হয়ে গেছে। এতে ড্রেজিংকৃত মাটি প্রতিস্থাপন প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশুর নদীর মুখ থেকে জয়খা পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় দুই পাড়ে মাটি ফেলার জায়গার অভাবে মাটি রাখা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ড্রেজিংয়ে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা জানান, মাটি ফেলার জায়গা তৈরি, টাইডাল বেসিন নির্মাণ, শাখা নদী ও শাখা খাল দ্রুত খনন, চ্যানেল পাড়ের স্তূপীকৃত মাটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে মোংলা বন্দরের পশুর নদী থেকে জয়খা পর্যন্ত স্তূপীকৃত মাটি সরিয়ে ফেলা খুবই জরুরি।
নদী গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস-এর উপপরিচালক ডক্টর মমিনুল হক সরকার জানান, বর্তমান অবস্থায় চ্যানেলটির নাব্য ধরে রাখতে হলে চ্যানেলপাড়ের স্তূপীকৃত মাটি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। চ্যানেলসংলগ্ন নদী-খাল দ্রুত খনন সম্পন্ন, একাধিক টাইডাল বেসিন নির্মাণ, মোংলা থেকে জয়খা এলাকার বড়ো বড়ো খালে নির্মিত স্লুইসগেট অপসারণ করতে হবে। জলাভূমিগুলো উন্মুক্ত করতে হবে এবং নেভিগেশন লক নির্মাণ করা জরুরি।
বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমান বলেন, মাটি রাখার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি খরচে কীভাবে মাটি সরানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আমরা নেভিগেশন লক করার চিন্তা করছি।’
