চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন হামলায় আগুনে পুড়েছে সৌদি আরবের দু’টি তেল শোধানাগার। দু’টি শোধনাগারই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকোর পরিচালনাধীন। অন্তত দশটি ড্রোন ব্যবহার করে আবকাইক শোধনাগার এবং খুরাইস তেলক্ষেত্রের ওপর আক্রমণ চালানো হলে এগুলোতে আগুন ধরে যায়। তবে দু’টি স্থাপনার আগুন নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছেন সৌদি কর্মকর্তারা। ইরান সমর্থিত ইরানের হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আরো বাড়বে। খবর বিবিসির
সৌদি আরবের সরকারি প্রেস এজেন্সি জানায়, শনিবার ভোর ৪টার দিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকোর নিরাপত্তা দল আবকাইক ও খুরাইসের দু’টি স্থাপনায় ড্রোন আক্রমণের ফলে সৃষ্ট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কারা এ আক্রমণের পেছনে বা এতে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে সৌদি কর্মকর্তারা কোন মন্তব্য করেননি। আবকাইকে আক্রান্ত তেল শোধনাগারটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং সেখান থেকে একশ’ কিলোমিটার দূরের খুরাইস হচ্ছে সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলক্ষেত্র। খুরাইসে বিশ্বের মোট চাহিদার ১ শতাংশ তেল উত্পন্ন হয়, আর আবকাইক তেল শোধনাগার বিশ্বের সরবরাহের ৭ শতাংশ তেল জোগান দেবার ক্ষমতাসম্পন্ন। এর ক্ষতির পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম।
হুতিদের দায়িত্ব স্বীকার
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র আল-মাসিরা টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, তারা ১০টি ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরো আক্রমণ চালানো হতে পারে। ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের লড়াই চলছে এবং গত কয়েক মাসে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ভেতরে সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবিসির প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা জনাথান মার্কাস বলেছেন, সর্বসাম্প্রতিক এই হামলা থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো হুতি বিদ্রোহীদের দিক থেকে কৌশলগত হুমকির মুখে রয়েছে। হুতিদের ড্রোন আক্রমণ চালানোর দক্ষতা যেভাবে বাড়ছে তাতে এই বিতর্কটা আবার নতুন করে সামনে চলে আসছে যে তাদের এই সক্ষমতা অর্জনের পেছনে কারা আছে।
