জনগণের আস্থা-বিশ্বাস ধরে রাখতে সচেতন থাকতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২২

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাত্র এক দশকেই উন্নয়ন ও অগ্রগতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে। এই আস্থা-বিশ্বাস ধরে রাখতে দলটির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সচেতন থাকতে হবে। আন্তরিকতা নিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য নেতাকর্মীদের কাজ করে যেতে হবে। তবেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব। জনগণের আস্থায় যেন ফাটল না ধরে সে জন্যও নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না। নষ্ট করতে পারবে না। তবে আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে, জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে হবে, তাঁর স্বপ্নপূরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তৃতার পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সাংগঠনিক বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। বৈঠকে দেশবাসী কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর, দলের ত্রি-বার্ষিকী জাতীয় সম্মেলন, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক-সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়। দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিল এবং সারাদেশে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশকিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের ২০ ও ২১ তারিখ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। গত এক দশকে আমরা দেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি, সেই উন্নয়নের গতিধারাটি ধরে রাখতে হবে। আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য ১০০ বছরের ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ ঘোষণা করেছি। দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে সেজন্য আমরা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আমাদের (আওয়ামী লীগ) জনগণের প্রতি অনেক দায়-দায়িত্ব রয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল। উড়ে এসে জুড়ে বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দল গঠিত হয়, সেই দলের দেশ ও জনগণের প্রতি কোনো দায়-দায়িত্ব থাকে না। এরা নিজেদের ভাগ্য গড়তে আসে। তাই আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।