শিল্পে বিদ্যুত্-জ্বালানি সংকট সমাধানে নতুন কমিটি করছে সরকার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৩২

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত্ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন এবং মানসম্পন্ন সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে শিল্প মালিকদের মধ্যে। এ সমস্যা নিরসনে দফায় দফায় আলোচনা এবং আশ্বাস পেলেও সমাধান মেলেনি। শিল্প-কারখানায় নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদানে এবং লোডবৃদ্ধিতে ২০১১ সালে জ্বালানি উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গত মে মাসে ঐ কমিটি বাতিলের পর এবার আরো বড়ো পরিসরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত্ ও জ্বালানির সমস্যা নিরসনে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার দুপুরে রাজধানীতে বিদ্যুত্ ভবনে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও শিল্প মালিকদের সঙ্গে এক সভাশেষে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের তথ্য জানান বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ‘বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুত্ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি)।

নসরুল হামিদ বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটি গঠন করা হবে। দুই মাসের মধ্যে কমিটিকে সরকারের কাছে সুপারিশ উপস্থাপন করতে হবে। এরপর আট থেকে ১০ মাসের মধ্যে সরকার সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, বিইপিআরসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার (শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির) সমন্বয়ে এ কমিটি করা হবে। এ কমিটিই বিদ্যমান অসঙ্গতি, সম্ভাব্য সমাধান বা ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী (বীরবিক্রম) বলেন, শিল্প উদ্যোক্তাদের ক্যাপটিভ বিদ্যুেকন্দ্রের জ্বালানি ব্যবহারে আরো সাশ্রয়ী হতে হবে। এজন্য কেন্দ্রগুলোকে কো-জেনারেশন বা ট্রাই-জেনারেশন অর্থাত্ কেন্দ্রগুলো থেকে যে তাপ নির্গত হবে সেই তাপ পুনর্ব্যবহার করতে হবে।

সভায় ব্যবসায়ী নেতারা গ্যাস সংযোগে দীর্ঘসূত্রতা, ঘন ঘন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, ইভিসি মিটার না দেওয়া, ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে ১৬ ঘণ্টা গ্যাস দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ না পাওয়াসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ করেন।

সভাশেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার, যা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহে অনেকখানি সহায়ক হবে। তিনি বলেন, এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৪ হাজার কোটি টাকার গ্যাসের বিল বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া পরিশোধে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে সরকার।