নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দ্বিজেন শর্মা কয়েক প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে গেছেন। তার আদর্শে উজ্জীবিত তরুণরাই প্রকৃতি সংরক্ষণ আন্দোলনে আগামীদিনের নেতৃত্ব দেবে। দ্বিজেন শর্মা যেন একই সঙ্গে কবি ও বিজ্ঞানী। তার লেখায় অনন্য কাব্যময়তা রয়েছে। তিনি লেখায় সাহিত্য ও বিজ্ঞানের সুন্দর সম্মিলন ঘটিয়েছেন।
এদিকে, আজ রবিবার তরুপল্লব দ্বিজেন শর্মা স্মরণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে দ্বিজেন শর্মা স্মরণে প্রবর্তিত ‘তরুপল্লব দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কার-২০১৯’ প্রদান করা হবে। এবার এ পুরস্কার পাচ্ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন।
জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। প্রধান অতিথি থাকবেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
দ্বিজেন শর্মা ১৯২৯ সালের ২৯ মে তত্কালীন সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন দ্বিজেন শর্মা। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
প্রকৃতি ও নিসর্গবিষয়ক লেখালেখিরও পথিকৃত্ দ্বিজেন শর্মা। উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা তার আকরগ্রন্থ ‘শ্যামলী নিসর্গ’। গাছ, ফুল বা ফলের বর্ণনায় ফিরে ফিরে লিখেছেন ময়মনসিংহ গীতিকা, জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্দীনের কাব্য থেকে শুরু করে সিলেটের লোকগীতি কিংবা মধ্যযুগের কাব্যগাথার উদ্ধৃতি।
তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা: দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উত্পত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’, ‘হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার’, ‘বাংলার বৃক্ষ’ ইত্যাদি।
