লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভূমি বেদখলের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৮

g  কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন অংশে বনভূমি বেদখল হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল সংকট ও উদ্যানটির পরিধি কমে বনের জীব-বৈচিত্র্যসহ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পশ্চিম ভানুগাছের রিজার্ভ ফরেস্টের ১২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়।

সরেজমিনে লাউয়াছড়া এলাকা ঘুরে জানা যায়, বেদখল হওয়া বনভূমিতে চাষাবাদ হচ্ছে লেবু, আনারসসহ অন্যান্য ফসল। ফি বছর ভূমি দখলের পরিসর সম্প্রসারিত হচ্ছে। উদ্যানের ডরমিটরি টিলা সংলগ্ন পূর্ব এলাকায় প্রায় ১৫ একর ভূমি দখল করে গত চার বছর ধরে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। ডরমিটরি এলাকার পশ্চিম পার্শ্বে হীড বাংলাদেশ অফিস সংলগ্ন জাতীয় উদ্যানের আরো একটি টিলার প্রায় ১৫ একর ভূমি দখলে নিয়ে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। লেবু বাগান ঘেঁষা টিলাসমূহে গাছগাছালি ও লতাগুল্ম কেটে, টিলা কেটে নতুন করে বাণিজ্যিকভাবে আবাদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব টিলায় দীর্ঘদিন ধরে টিনসেড ঘর করে লোকজন বসানো হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এসব টিলাভূমি দখলের সাথে জড়িত। এসব কারণে উদ্যানে বসবাসরত বন্যপ্রাণির আবাসস্থল সংকোচিত হয়ে আসছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, যারা এসব ভূমি দখল করছে তারা এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তারা বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে লেবু বাগান গড়ে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করছে। এদের কেউ কেউ ইতিপূর্বে জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির সাথেও সম্পৃক্ত ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আপনাদের কাছ থেকে সংবাদ পাওয়ার পর গত ৫ ডিসেম্বর ডরমিটরি এলাকা সংলগ্ন দখলকৃত এলাকা উচ্ছেদ করে আমাদের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে হীড বাংলাদেশ সংলগ্ন অফিসের পার্শ্ববর্তী টিলা দখলে নিয়ে টিনসেড ঘরে লোকজনের বসবাস বিষয়ে জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক আবু মুছা মো: মুহিত বলেন, সংবাদ পেয়ে দখলকৃত ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হীড বাংলাদেশ সংলগ্ন টিলার দখলের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।