ফুটবলাররা ছুটি কাটাচ্ছেন

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৭

চার দিনের ব্যবধানে দুটি ম্যাচ

স্পোর্টস রিপোর্টার

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল এবং এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই খেলতে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে। আগামী ১০ অক্টোবর কাতারের বিপক্ষে ঢাকায় এবং চার দিন পরই কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশে ম্যাচ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কঠিন লড়াই হবে। বাংলাদেশের জন্য এই দুটি ম্যাচের দিকে তাকিয়ে দর্শক। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ বলে ভারতে এরই মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে। সেখানকার সংবাদ মাধ্যম ১৫ অক্টোবরের ম্যাচ ঘিরে সংবাদ প্রচারও করছে। আলোড়ন তুলছে। ভারতীয় ফুটবল তারকা বাইচুং ভুটিয়া তাদের দেশের কোটি কোটি সমর্থককে পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে খেলা হবে। দর্শকদের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা মাঠে এসে যেন গগনবিদারী আওয়াজ তোলে। যে আওয়াজে ভারতীয় ফুটবলাররা উজ্জীবিত হয়ে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেবে। বাইচুং ভুটিয়ার বিশ্বাস সল্টলেকের হাজার হাজার সমর্থকের ধ্বনিতে কেঁপে উঠবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। কলকাতার দর্শকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন বাইচুং। ভারতের শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভুইয়ার সাক্ষাত্কার নিয়েছে। জামাল ইউরোপে অবস্থান করছেন, সেখানে ফোনে যোগাযোগ করে সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে কোণঠাসা করতে ভারতীয় ফুটবল নানা কৌশল আটছে এটা বোঝা যায়। কিন্তু বুঝতে পারছেন না বাংলাদেশের ফুটবল কর্তারা। যাদের হাতে জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব তারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছুটিতে পাঠিয়েছে। সঙ্গে কোচও ছুটি কাটাতে গেছেন।

১০ অক্টোবর কাতারের বিপক্ষে খেলা। জাতীয় ফুটবল দল আসবে। এই কাতার বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ। বাছাই খেলতে তারা নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে। বাংলাদেশ কাতারের বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলবে। হাজার হাজার দর্শক আসবে। শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে লড়াইয়ের রেশ না কাটতেই ভারতের বিপক্ষে নামতে হবে। এত কঠিন দুটি ফুটবল পরীক্ষা সামনে অথচ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ঘুমাতে পাঠানো হয়েছে। ঘুমাতে গেছেন। দেখে মনে হচ্ছে সামনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাতার এবং ভারত উড়ে যাবে। জীবন, মতিন মিয়া, সোহেল রানা, মামুনুল, বিপলুরা তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পারফরম্যান্স করবে। এভাবেই যদি সম্ভব হতো তাহলে কচ্ছপ আর খরগোশের গল্পটা লেখা হতো না। বাফুফের টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো নিজেদেরকে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার মতোও শক্তিশালী মনে করছেন। ফুটবল পন্ডিতরা মনে করছেন খেলোয়াড়দের বিশ্রাম অবশ্যই দরকার আছে। কিন্তু এভাবে একেবারে ছেড়ে দিয়ে নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ গোলের সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারার ব্যর্থতা শুধরানোর কাজ করতে পারতেন কোচ। কাতারের বিপক্ষে আক্রমণ ঠেকাতে রক্ষণভাগ কিভাবে কাজ করবে সেটি নিয়ে কাজ করতে পারত জাতীয় দল। দশ বারো দিনেই সবকিছু শুধরে কাতারকে থামিয়ে দেওয়ার ভাবনা কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের। মনে হচ্ছে দলে নেইমার, মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা, বেলের মতো ফুটবলার যখন আছে বাংলাদেশ দলের খুব একটা সমস্যা হবে না। ম্যানেজমেন্ট কমিটি ভুলে যাচ্ছেন তাদের হাতে জাতীয় দল পড়ে সাফ থেকে তিনবারই গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। মাথা নিচু করে ফিরেছে ফুটবল দল। সাবেক তারকা স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলাম বললেন, ‘এ ধরনের দুটি ম্যাচে আগে সবাইকে ছুটি দেওয়াটা আমার কাছে মনে হচ্ছে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়েছে।’