মাহবুব শরীফ
কম্পিউটার যারা ব্যবহার করে থাকেন, তাদের প্রচুর পরিমাণে ডকুমেন্ট ফাইল নিয়ে কাজ করতে হয়। আর এ ধরনের কাজ ক রতে গেলে ওর্য়ার্ড প্রসেসর সফটওয়্যার নিয়েই কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার। ডক্যুমেন্ট ফাইলের মধ্যে অবশ্য পিডিএফ ফরম্যাটটিও বহুল ব্যবহূত। অ্যাডোবি’র রিডার আবার পিডিএফ ফাইলের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব থার্ড পার্টি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে গেলে টাকা খরচ করতে হয়। তবে বিনামূল্যে কার্যকরী কিছু সফটওয়্যার পাওয়া যায় অনলাইনে। এই লেখায় এই সম্পর্কিত তিনটি কার্যকরী সফটওয়্যারের খোঁজ জানানো হলো।
অফিসট্যাব
চীনের ডিটং টেকনোলজি তৈরি করেছে অফিস ট্যাব নামের এই অ্যাড-অনটি। সাধারণত মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে যেকোনো ডক্যুমেন্ট খুললেই তা আলাদা আলাদা উইন্ডেতে ওপেন হয়। তবে অনেকেই আবার ওয়েব ব্রাউজারের একই উইন্ডোতে একাধিক ট্যাবের স্টাইলটি পছন্দ করে থাকেন। ওয়ার্ডে এই ট্যাব ব্রাউজিংয়ের সুবিধা এনে দিতে পারে অফিস ট্যাব। কেবল ওয়ার্ডেই নয়, এক্সেল এবং পাওয়ার পয়েন্টের ক্ষেত্রেও ট্যাব ব্রাউজিংয়ের সুবিধা দিতে পারে অফিস ট্যাব। অফিস ট্যাব ব্যবহার করে একই উইন্ডোতেই একাধিক ফাইল খোলা, পড়া ও সম্পাদনার কাজ করা যায়। আবার একটি মাত্র ক্লিকেই বন্ধ করা যায় সব ট্যাব। একাধিক ফাইল একটি উইন্ডোর বিভিন্ন ট্যাবে খুলে সম্পাদনা করার পর তা সংরক্ষণ করার জন্য আলাদা আলাদা কমান্ড দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর কনটেক্সট মেন্যু থেকে ‘Save all’-এ ক্লিক করলেই সব পরিবর্তন সংরক্ষিত হবে। এখান থেকেই ফাইলের নাম পরিবর্তন করার সুযোগও রয়েছে। অনেক সময় ফাইলের নাম অনেক লম্বা হলে তা টাস্কবারে পুরোটা প্রদর্শন করে না। অফিস ট্যাব থেকে পুরো নামটিই সবসময় প্রদর্শন করানো যাবে। এর ইন্টারফেসটি অনেক সহজভাবে তৈরি করা হয়েছে। ওয়ার্ড ফাইলে মাউসের ডান বাটন ক্লিক করলেই ‘অফিস ট্যাব’-এর কনটেক্সট মেন্যু হাজির হবে। এখানে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে বেশি ব্যবহূত কিছু ফাংশনও যোগ করা রয়েছে। ওয়েব ব্রাউজারগুলোতে যেমন ট্যাবগুলো কিবোর্ড কমান্ডের মাধ্যমেই পরিবর্তন করা যায়, এখানেও একইভাবে এক ট্যাব থেকে অন্য ট্যাবে যাওয়া যায়। এ ছাড়া এতে ট্যাবগুলোর ইন্টারফেস বদলে দিতে রয়েছে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন বিল্ট-ইন স্টাইল। এখান থেকে ব্যবহারকারী তার পছন্দমতো যেকোনো স্টাইল বেছে নিতে পারেন। এটি ইনস্টল করলে তা পিসির পারফম্যান্সেও প্রভাব ফেলে না। এর মাধ্যমে অনেক সর্টকাট নিজের মতো করে তৈরিও করা যায়। মাইক্রোসফট পাবলিশার, অ্যাকসেস, প্রজেক্ট বা ভিজিওতেও ব্যবহার করা যায় এই অ্যাড-অন; তবে তার জন্য এর এন্টারপ্রাইজ সংস্করণ ব্যবহার করতে হয়। আর তার জন্য অর্থ খরচ করতে হবে। http://goo.gl/FRvMo থেকে ডাউনলোড করা যাবে এই অফিস ট্যাব।
পিডিএফ ক্রিয়েটর
অনেক সময়ে ফাইল নিয়ে কাজ করার সময় ফাইল ফরম্যাট হিসেবে পিডিএফ অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। তাই অনেক ফাইলকেই পিডিএফে রূপান্তর করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সহজে পিডিএফ ফাইল তৈরি করা যায় না। এই কাজটিতে আপনাকে সহায়তা করতে পারে পিডিএফক্রিয়েটর। বিনামূল্যের এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের ফাইল ফরম্যাটকে পিডিএফ ফাইলে রূপান্তর করা যায়। পিডিএফক্রিয়েটর ইনস্টল করার পর যেকোনো ওয়ার্ড বা অন্য কোনে ফাইলে গিয়ে মেন্যু থেকে প্রিন্ট কামান্ড চেপে সেখান থেকে প্রিন্টার বা অন্য কোনো প্রিন্ট ডিভাইস নির্বাচন না করে নির্বাচন করতে হবে পিডিএফক্রিয়েটর অপশনটি। তারপর প্রিন্ট কমান্ড দিলেই ফাইলটি পিডিএফ ফরম্যাটে সংরক্ষিত হয়ে যাবে। সোর্সফোর্জের একটি প্রকল্প আকারে তৈরি করা ওপেনসোর্স এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রিন্ট করা যায়—এরকম যেকোনো ফাইল বা প্রোগ্রাম থেকেই পিডিএফ ফাইল তৈরি করা যায়। এই অ্যাড-অনটির বড় একটি সুবধাি হচ্ছে পিডিএফ ফাইল তৈরি করার সাথে সাথে এতে পাসওয়ার্ডও যুক্ত করা যায়। যার ফলে ফাইলকে সুরক্ষিত রাখা যায় সহজেই। এ ছাড়া এনক্রিপশনের মাধ্যমে এর দ্বারা তৈরি ফাইলকে সুরক্ষিতও রাখা যায়। কেবল পিডিএফ ফাইল ফরম্যাটই নয়, পিডিএফ ক্রিয়েটর ব্যবহার করে পিএনজি, জেপিজি, টিফ, বিএমপি, পিসিএক্স, পিএস, ইপিএস ফাইলেও রূপান্তর করা যায় যেকোনো ওয়ার্ড ফাইলকে। যার ফলে এর কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত। http://goo.gl/MNkED ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে বিনামূল্যের এই অ্যাপ্লিকেশন।
ক্রসআইস
যেসব ওয়ার্ড ফাইলে প্রচুর পরিমাণে ফরম্যাটিং ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেসব ফাইল নিয়ে কাজ করতে আদর্শ একটি টুলস হতে পারে ক্রস আইস। অনেক ক্ষেত্রেই ওয়ার্ড ফাইলে এমনভাবে ফরম্যাটিং করা থাকে যে সেসব ফাইল সম্পাদনা করতে গিয়ে প্রচুর সমস্যায় পড়তে হয়। বোল্ড, ইটালিক, নানান সাইজের ফন্ট, হেডার, ফুটার, টেবিল, প্যারাগ্রাফ স্টাইলসহ নানান ধরনের ফরম্যাটিং থাকতে পারে একটি ওয়ার্ড ফাইলে। এ ক্ষেত্রে এসব ফাইল সম্পাদনা সহজ করতেই রয়েছে ক্রসআইস। ফরম্যাটিংয়ের গোপন কোনো সেটিং থাকলে তা সহজেই দূর করে দিতে পারে এটি। অ্যাড-অনটি ইন্সটল করলে ওয়ার্ডের টুলবার থেকে এক ক্লিকেই চালু করা যায়। এটি চালু করলেই ওয়ার্ড ফাইলের নিচে একটি উইন্ডো ওপেন হবে। এখানে ওয়ার্ড ফাইলের প্রতিটি অংশ কী কী কোড ব্যবহার করা হয়েছে, তার সব তথ্যই পাওয়া যাবে। যার ফলে ওয়ার্ড ফাইলের কোনো অংশ সম্পাদনা করতে চাইলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। http://goo.gl/3zEjM ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে কার্যকরী এই সফটওয়্যারটি।
