ক্যারি লাম সরে গেলেই কি সমস্যার সমাধান?

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১১

এম এ আলআমীন

 

হংকং ২২ বছর ধরে গণচীনের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অঞ্চল। ১৯৯৭ সালের ৩০ জুন ব্রিটেন এটি চীনের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল। সেই থেকে আজ অবধি কোনো শীর্ষ নির্বাহী পর পর দুটি মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে ক্ষমতাসীন ক্যারি ল্যামও তার ব্যতিক্রম হবেন বলে মনে হয় না। এ বছর জুনে হংকংয়ে চীনবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। হংকং পরিস্থিতি এখনো উত্তাল। চীনের বিশেষ প্রশাসনিক এলাকাটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। গত তিন বছরে বেইজিংয়ের নিয়োগ করা গভর্নর অনেক নজীরবিহীন নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। হংকংয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ব্যাপকমাত্রায় কমেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা হয়েছে। যেসব তরুণ বেইজিংয়ের খবরদারি নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন কি তারা কোনো রাজনৈতিক দলও গঠন করতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ক্যারি লামের বিষয়ে একটি তথ্য ফাঁস করেছে। যে কথাটি তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে কোনো বৈঠকে বলেছিলেন, তাহলো তিনি পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক নন। তিনি কোনোমতেই তার চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে তার পদত্যাগ পত্র জমা দেবেন না। ক্যারি পদ ছাড়ছেন না, এটা ঠিক। তবে এটাও নিশ্চিত করে বলা যায় যে, ২০২২ সালে তিনি পরবর্তী নির্বাচনে লড়বেন না। তিনি পদত্যাগ করলেই পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে তা নয় বরং বেইজিংয়ের পক্ষে অবস্থা সামাল দেওয়া আরো কঠিন হবে। তিনি পদত্যাগ করলে হংকংয়ের সংবিধান অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে শূন্য পদে একজনকে বসাতে হবে। ক্যারি এবং তার পূর্বসূরি সবার ক্ষেত্রেই যা হয়েছে, তাহলো একটি ‘ইলেকশন কমিটি’ তাদের বাছাই করে ওই পদে বসিয়েছে। ইলেকশন কমিটিতে বেইজিংপন্থিদেরই প্রাধান্য। কাজেই ক্যারি বিদায় নিলে আরেকটি চীনপন্থি তার শূন্য স্থান পূরণ করবেন। ইলেকশন কমিটির সংস্কার নিয়ে ২০১৪ সাল থেকেই সেখানে বিতর্ক রয়েছে।