সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
ইস্পাত শিল্পে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে গড়ে উঠেছে জিপিএস ইস্পাত কারখানা। বিশ্বের সর্বাধুনিক ইএএফ কোয়ান্টাম ও কন্টিনিউয়াস রোলিং প্রযুক্তি একই ছাদের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে জিপিএস ইস্পাত কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জিপিএস-এর ন্যায় সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির আলোকে নির্মিত দ্বিতীয় কারখানাটি রয়েছে অস্ট্রিয়ায়। এ প্রযুক্তির বর্তমান মালিকানায় রয়েছে জাপান, জার্মানি, ইতালি ও অস্ট্রিয়া। এটি রেফারেন্স প্ল্যান্ট হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। একক শেডের নিচে দেশের সবচেয়ে বড় কারখানাটি হচ্ছে জিপিএস ইস্পাত। একইসাথে এটি সবুজ কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে এ জেলার সীতাকুণ্ড এলাকায়। দেশি-বিদেশি অর্থ সহায়তায় ২৫০ একর জায়গার ওপর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জিপিএস ইস্পাত কারখানা আগামী মাসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানা যায়।
প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী ড. সাইয়েদ সুমন জানান, বিশ্বের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটেছে এখানে। এটি সমন্বিত স্টিল প্ল্যান্ট। দেশের প্রচলিত কারখানার তুলনায় এতে প্রতি টন পণ্য উত্পাদনে প্রায় ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে। বছরের হিসেবে ২২ কোটি ৭০ লাখ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে। যা দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের মধ্যে বিদ্যুত্ সুবিধা দেয়া সম্ভব। প্রচলিত কারখানার চেয়ে টনপ্রতি ৩৫ ঘনমিটার গ্যাস কম লাগবে। বছরে তা দাঁড়াবে ২ কোটি ২৪ লাখ ঘনফুট। বছরে ১০ লাখ টন লৌহ সামগ্রী উত্পাদনে সক্ষম জিপিএস ইস্পাত কারখানায় ৪০ মিনিটে ৮০ টন লৌহ সামগ্রী উত্পাদন হবে। জিপিএস কারখানায় উত্পাদনের ক্ষেত্রে চার ‘এম’ বাস্তবায়ন করা হবে। ম্যান, মেশিন, ম্যাটেরিয়াল ও মেথোডের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন লৌহসামগ্রী উত্পাদন করা হবে। এ কারখানায় বিশ্বের সব ধরনের সাইজের লৌহ সামগ্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা সম্ভব। ডি-ডাস্টিং পদ্ধতির এ কারখানায় প্রতি ঘনমিটার বাতাসে মাত্র ১০ মিলিগ্রাম ক্ষতিকর কণা মিশতে পারে। যা বিশ্বব্যাংকের গ্রহণযোগ্য মানদণ্ডের চেয়ে শতকরা ৮০ ভাগ কম। বিশ্বব্যাংকের এক্ষেত্রে মানদণ্ড হচ্ছে ৫০ মিলিগ্রাম।
জিপিএস ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল ইত্তেফাককে জানান, বড় বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসা হয়েছে এ কারখানার মাধ্যমে। এটি শুধু শিল্পকারখানা নয়, এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ৩ হাজার এবং পরোক্ষ ৮ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এখানে ১৫০ জন বিএসসি এবং ১৫০ জন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কাজ করছে। প্রতি বছর সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যারা দেশে-বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি করতে পারবে। জিপিএস ইস্পাত কারখানা নিজের জন্য এবং দেশের দক্ষ জনশক্তি এবং গবেষণা কাজের জন্য একটি উন্নত রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ করেছে। উক্ত সেন্টারে বুয়েটসহ প্রকৌশলী গবেষণায় মেধাবীদের স্থান করে দেয়া হবে। এমনকি সদ্য পাশ করা প্রকৌশলীদেরও দক্ষ করে গড়ে তোলার কাজ করবে জিপিএস।
