বিয়েতে সুদিন আসুক

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৩

আমি গ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছি। আমার এক মেয়ে এক ছেলে। বাড়িতে ৮ কাঠার মতো জায়গা ছিল। বড় মেয়েকে এমবিএ করানোর পরে  বিয়ে দিলাম। বিয়ের সময় দাবি ছিল সব অনুষ্ঠান ক্লাবে করতে হবে। যেহেতু গরমের দিন সেহেতু ক্লাবগুলোতে এসি থাকতে হবে অবশ্যই। আমার জামাই বাবাজির বাড়ি থেকে আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের খাবার কী হবে তার একটি তালিকা পাঠানো হলো—৩০০ জন মানুষের জন্য মোরগ পোলাও, চিংড়ি মাছ, রূপচাঁদা, খাসি,  চিকেন ফ্রাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। চট্টগ্রামের আতিথেয়তার অংশ হিসেবে আমার পক্ষের ১৫০ জনসহ মোট ৪৫০ জনের আয়োজন করলাম। পাত্র পক্ষ থেকে এলেন ১৮০ জন। আমার পুরো আয়োজনে ১৭০ জন মানুষের খাবার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অথচ ১৯৮৮ সালে আমি যখন বিয়ে করি, আমার বাবা কাকা মিলে মোট ৭ জন ব্যক্তি আমার শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে আশীর্বাদ করতে গিয়েছিলেন। বরযাত্রী গিয়েছিলেন ১০০ জন। বস্ত্রালংকারে গিয়েছিলেন ৮ জন আর জামাইভাতাতে গিয়েছিলাম ২৫ জন। যাই হোক, আমার মেয়ের বস্ত্রালংকারে পাত্র পক্ষের ৪০ জন, বিয়েতে ৭০০ জন এবং জামাইভাতাতে ২৫০ জনের আয়োজন করেছিলাম। পাত্র পক্ষ বলেছে তাদের যৌতুক দরকার নাই। কিন্তু তাদের কয়েকজন আত্মীয় আমাকে বলেন, আপনার মেয়েকে আপনারা সাজিয়ে দেবেন। আমি ফুল সেট ফার্নিচার, ফ্রিজ, এলইডি টিভি, মেয়ের জন্য বেশ কয়েক ভরি  অলংকার, আরো অনেক কিছু দিয়েছিলাম। এতোসব করতে গিয়ে আমাকে ছয় কাঠা জায়গা বিক্রি করতে হয়েছিল। ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি তিন লাখ টাকা। এত টাকা খরচ করে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি শুধুমাত্র আমার মেয়ের সুখের আশায়। জানি না মেয়ের ভাগ্য কি আছে। একদিন আমার ছেলে আমাকে অদ্ভুত প্রশ্ন করল। ছেলে বলে, বাবা তুমি দিদিকে বিয়ে দিতে অনেক জায়গা বিক্রি করেছ। যদি ভবিষ্যতে আমার মেয়ে হয়, আমি কিভাবে মেয়ের বিয়ে দেব? আমার জন্য তো আর জায়গা রইল না। আমি ছেলেকে বললাম, তুই চিন্তা করিস না বাবা। চট্টগ্রামের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোর চিন্তার পরিবর্তন হবে। আশা করছি সেই সুদিনের আসবেই।

রূপম চক্রবর্ত্তী

পূর্ব নলুয়া, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম