দ্বিজেন শর্মা কয়েক প্রজন্মের মাঝে প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে গেছেন

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৭

স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দ্বিজেন শর্মা কয়েক প্রজন্মের মাঝে প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে গেছেন। তার আদর্শে উজ্জীবিত তরুণরাই আজ প্রকৃতি সংরক্ষণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দ্বিজেন শর্মা ছিলেন একই সঙ্গে কবি ও বিজ্ঞানী। তার লেখায় অনন্য কাব্যময়তা রয়েছে। তিনি লেখায় সাহিত্য ও বিজ্ঞানের সুন্দর সম্মিলন ঘটিয়েছেন। গতকাল রবিবার প্রকৃতিপুত্র দ্বিজেন শর্মার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এভাবেই মূল্যায়ন করেন তাকে।

গতকাল দ্বিজেন শর্মা স্মরণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তরুপল্লব। এ অনুষ্ঠানে তার নামে প্রবর্তিত ‘তরুপল্লব দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কার’ দেওয়া হয়। হারিয়ে যাওয়া বিপণ্ন প্রজাপতিকে খুঁজে বের করে তার পুনরুজ্জীবনে গবেষণার অবদান হিসেবে এবার এ পুরস্কার পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে পরস্কারপ্রাপ্ত মনোয়ার হোসেনকে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট, সনদপত্র তুলে দেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। শংসা বচন পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক সাদিয়া মাহজাবিন ইমাম। এছাড়া, বৃক্ষসখা হিসেবে উদ্দীপনামূলক পুরস্কার দেয়া হয় শাহানা চৌধুরী ও লায়লা আহমেদকে। মানুষকে গাছ লাগানোর জন্য উত্সাহিত করতে এ পুরস্কার এ বছর থেকে প্রবর্তন করে তরুপল্লব।

জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী। বিশেষ অতিথি ছিলেন লোকগবেষক শামসুজ্জামান খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, প্রকৃতি বিশারদ ড. ইশতিয়াক উদ্দীন আহমদ প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তরুপল্লব-এর সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন।

পুরস্কার পেয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দ্বিজেন শর্মা যে কাজ করে গেছেন আমাদের কাজ হচ্ছে দ্বিজেন শর্মার সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মানুষের মাঝে প্রকৃতিপ্রেম বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তবেই পৃথিবী সুন্দর আবাসভূমি হয়ে উঠবে।

প্রকৃতি ও নিসর্গবিষয়ক লেখালেখিরও পথিকৃত্ দ্বিজেন শর্মা। উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা তার আকরগ্রন্থ ‘শ্যামলী নিসর্গ’। গাছ, ফুল বা ফলের বর্ণনায় ফিরে ফিরে লিখেছেন ময়মনসিংহ গীতিকা, জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্দীনের কাব্য থেকে শুরু করে সিলেটের লোকগীতি কিংবা মধ্যযুগের কাব্যগাথার উদ্ধৃতি। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উত্পত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’, ‘হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার’, ‘বাংলার বৃক্ষ’ ইত্যাদি।