মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার সাবেক এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ও বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে ঐ সাবেক নারী ইউপি সদস্য শীলা রানী বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আংশিক অস্বীকার করেছেন।
শিবালয় উপজেলার নতুন ফরিদপুর গ্রামের মৃত ওহেদ আলীর ছেলে মো. ওহাব আলী গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, শিবালয় ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য শীলা রানী বিশ্বাস তাকে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে চার হাজার টাকা উেকাচ নেন। এরপর তিনি জানতে পারেন তার নামে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু ঐ সাবেক ইউপি সদস্য কার্ডটি তার হাতে না দিয়ে তার টিপসই জাল করে গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ৮ হাজার ৪০০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেছেন। পরে অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাবেক ঐ নারী সদস্য তার বইটি ফেরত দেন।
আর এক অভিযোগে জানা যায়, একই গ্রামের প্রতিবন্ধী মো. মোবারক হোসেনকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে চার হাজার টাকা উেকাচ নেন ঐ সাবেক নারী ইউপি সদস্য। পরে পুরো এক বছরের টাকা আত্মসাত্ করে একই কায়দায় অন্যের মাধ্যমে বইটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়া হয়।
কুলসুম বেগম নামে আরেকজন জানালেন, ঐ নারী ইউপি সদস্য তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে অগ্রিম চার হাজার টাকা উেকাচ নেন। পরে তার স্বাক্ষর (কুলসুম) জাল করে ব্যাংক থেকে গত এক বছরের টাকা তুলে নিয়ে যান। পরে অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার বয়স্ক ভাতার কার্ডটি ফেরত দেন ঐ সাবেক নারী ইউপি সদস্য।
একই ধরনের অভিযোগ মৃত হায়াত আলীর স্ত্রী রহিমার। তার কাছ থেকেও ঐ সাবেক ইউপি সদস্য শীলা রানী বিশ্বাস চার হাজার টাকা উেকাচ নিয়ে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন। কিন্তু পুরো এক বছরে ছয় হাজার টাকা তিনি আত্মসাত্ করে কার্ডটি ফেরত দেন। নতুন ফরিদপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মানিক মোল্লারও একই ধরনের অভিযোগ। তার কাছ থেকে সাবেক ইউপি সদস্য শীলা রানী বিশ্বাস চার হাজার টাকা নিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিলেও এক বছরের পুরো টাকা আত্মসাত্ করেন।
এদিকে সাবেক নারী ইউপি সদস্য শীলা রানী বিশ্বাস অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের টাকা তোলার কথা স্বীকার করলেও কার্ড করে দেওয়ার আগের উেকাচের টাকা সাবেক এক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএফএম ফিরোজ মাহমুদ জানান, অভিযোগের কপি এখনো তার হাতে এসে পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
