দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া ব্যাংকারদের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৫

অনিয়মের দায়ে শাস্তির আওতায় আসা ব্যাংক কর্মকর্তাদের তথ্য গোপন করা যাবে না। ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাত্, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হলে তার ব্যক্তিগত তথ্য  কেন্দ ীয় ব্যাংককে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দেয়।

এ ধরনের কর্মকর্তার তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অথরাইজ্ড কর্মকর্তার মাধ্যমে ‘করপোরেট ম্যামোনি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক সফ্টওয়্যারে এন্ট্রি করা হবে। যদিও ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা সফ্টওয়্যারে কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সব তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায় না। ব্যাংকিং সূত্রমতে, যারা সত্যিকারেই কোনো অনিয়ম-জালিয়াতি করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু পরিচালনা বোর্ড কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে ঋণ জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটে থাকে। পরিচালকদের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি করা যায় না। এ অবস্থায় পরিচালকরা পার পেয়ে যান। অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, পরিচালকদের বিরুদ্ধে তেমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অথচ চেয়ারম্যান, পরিচালকদের নির্দেশে যেসব অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকে, সেগুলোর দায় কর্মকর্তাদের ওপরই বর্তায়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এধরনের ঘটনার শিকার হলে ব্যাংকিং পেশায় চাকরির অযোগ্য হবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার  তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রযোজ্য তথ্য এন্ট্রি করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পক্ষে ডকুমেন্টসের কপি বাংলাদেশ ব্যাংকের সচিব বিভাগে পাঠাতে হবে। আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোনো কর্মকর্তার শাস্তি শিথিল বা মওকুফ করলে সফ্টওয়্যার থেকে ঐ কর্মকর্তার তথ্য মুছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টসের কপিসহ সচিব বিভাগকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে অনুরোধ জানাতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য সফ্টওয়্যার থেকে আবশ্যিকভাবে যাচাই করারও নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।