n মেহজাবিন তুলি
বর্ষার বিদায় আর শীতের আগের সময়টা বড় বেশি অন্যরকম! বর্ষা আর গরম যেন শেষ হয়েও হয় না। কোথায় যেন একটা রেশ থেকে যায়। শহরে এখনো উষ্ণতা। সকাল বেলাতেই রোদ ঝলমল। সন্ধ্যার দিকে তাপমাত্রা সামান্য কমে আসে! শরতের এ সময়ে বলা নেই কওয়া নেই বৃষ্টি হানা দিচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি তাই কমছেই না। যেমনই হোক আবহাওয়া, তাপমাত্রার পারদ উঠুক কিংবা নামুক, বসে থাকার জো নেই নগরের বাসিন্দাদের।
সকাল মানেই ছুটতে হচ্ছে কাজের প্রয়োজনে। ব্যস্ততা এ শহরের বাসিন্দাদের দেয় না অবসর। ভোর থেকে দৌড়ে বেড়ানো এই নাগরিকদেরর জন্য আজ জানাব কী করে এই সময়ে পোশাকে খুঁজে পাবেন স্বস্তি। ফ্যাশন ডিজাইনার আরিফা ও রুবাইয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পোশাকের রং, কাটিং ও নকশা নিয়েই ভেবেছেন তারা। একই সঙ্গে উজ্জ্বল কিন্তু স্বস্তিদায়ক রং, আরামদায়ক কিন্তু নতুন ধরনের কাটিং এবং আধুনিক কিন্তু ছিমছাম নকশা নিয়ে কাজ করছেন।
কেমন হতে পারে স্বস্তিদায়ক রং, নতুন ধরনের কাটিং এবং আধুনিক ছিমছাম নকশার পোশাক; জানালেন দেশি ব্র্যান্ড ফ্যাশন ভলিউমের চিফ ডিজাইনার নিশাত ওয়ালী। রং, ফেব্রিক, প্যাটার্ন ও অলংকরণ—এ চার বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন তিনি।
প্যাটার্ন
এ আবহাওয়াতে স্বস্তি পাওয়া যাবে নতুন প্যাটার্নের, অর্থাত্ কাটিংয়ের পোশাকে। পোশাকের স্লিভে থাকতে পারে বেল স্লিভ অথবা বেশ ফ্রিল দেওয়া স্লিভ। কনুই পর্যন্ত নয়, বরং কনুইয়ের একটু নিচ পর্যন্ত কাটিং এখনকার ফ্যাশন। নেক লাইনে ফিতা অথবা বোতামের ব্যবহার করা যেতে পারে। কুর্তির ক্ষেত্রে নেক লাইনে করতে পারেন নতুন কিছু নকশার নিরীক্ষা। নিচের অংশের কাটিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকে নতুনত্ব নিয়ে আসা যেতে পারে মুন শেইপ, ওভাল শেইপ, আবার কখনোবা পেছনের অংশের ঝুল রেখে। সমান করা নয়, বরং বড়ো-ছোট করা প্যাটার্নের চল চলছে এখন।
ফেব্রিক
এ সময়ে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ঘাম শুষে নেয় এমন ফেব্রিকে মিলবে স্বস্তি। এড়িয়ে যেতে হবে ভারী ফেব্রিক। সুতি, লিলেন আর তাঁতে বোনা ফেব্রিকে অনায়াসেই আরাম খুঁজে পাওয়া যাবে। মসৃণ ফেব্রিক এ সময়ে তৈরি করবে না অস্বস্তি। সুতার তৈরি নকশায় খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন বেশ সুচারুরূপে মসৃণ হয়, নয়তো শরীরে তৈরি করতে পারে অস্বস্তি।
রং
পোশাকে রং খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গরমের সময় এমন রং বেছে নিতে হয় যা সূর্যের আলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে পোশাককে রাখে শীতল। তাপ শোষণ করতে পারে, এমন রং এড়িয়ে যেতে হবে এ সময়ে। হালকা রং পোশাক নিয়ে আসবে স্বস্তি। এক্ষেত্রে বেছে নেওয়া যেতে পারে প্যাস্টেল রঙগুলো। প্যাস্টেলের এক আলাদা সৌন্দর্য আছে, যা পরিধানকারীকে এনে দেয় স্নিগ্ধতা। বেছে নিতে পারেন উজ্জ্বল রঙও, তবে এ ক্ষেত্রে নজর রাখতে হবে শেডের দিকে। প্রকৃতিতে থাকা রঙগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। যেমন সবুজের বিভিন্ন শেড, লাল, কমলা। এ সময়ে এসব রং যেমন দেখতে ভালো লাগবে, তেমনি এনে দেবে স্বস্তি। তবে কালো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো হবে। আর সাদা বেছে নিতে পারেন চোখ বন্ধ করে। সাদা অথবা মাখন মানিয়ে যাবে খুব। চোখ যেমন শান্তি পাবে এ রং দেখে, তেমনি পরিধানকারী থাকবে বেশ স্বচ্ছন্দ।
অলংকরণ
অলংকরণ বদলে দিতে পারে একটি পোশাককে। বাহুল্য বিবর্জিত অলংকরণ বেশ চলছে এ সময়ে। ছিমছাম অলংকরণ এ সময়ের পোশাক পরিধানকারীকে যেমন স্বস্তি এনে দেবে, তেমনি দর্শনকারীর চোখেও এনে দেবে শান্তি। ফুলের নকশা এ সময়ে বেশ প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাবে পোশাককে। ফুল নিজেই এক সৌন্দর্য, আর তা যখন রংতুলি অথবা সুই-সুতার মাধ্যমে পোশাকের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে, তাতে তৈরি হয় নান্দনিকতা।
জ্যামিতিক নকশাও বেশ মানিয়ে যাবে এ সময়ে। এ ধরনের নকশা বেশ একটি কাঠামোগত সৌন্দর্য নিয়ে আসতে পারে পোশাকে। জ্যামিতিক নকশার সঠিক ব্যবহার পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।
এ সময়ে অফিস কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কুর্তি এবং সালোয়ার-কামিজ-ওড়না বেছে নিতে পারেন। কুর্তির সঙ্গে পড়তে পারেন প্যান্ট অথবা পালাজ্জো। জিন্সও মানিয়ে যাবে বেশ। সঙ্গে রাখতে পারেন স্কার্ফ। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অথবা পোশাকের বিপরীত রঙের স্কার্ফ বেছে নিতে পারেন অনায়াসেই।
সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে খেয়াল রাখুব ওড়না যেন বেশি ভারী হয়ে না যায়। ওড়না হালকা হলে পাবেন স্বস্তি। ওড়নার পারের বাহুল্য এ সময়ে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। সুতির ওড়না বেছে নিতে পারেন। থাকতে পারে কোটা ফেব্রিকের ওড়না অথবা শিফন, জর্জেট।
চলে যায় বসন্তের দিন এমন দিনে তাই একটু একটু করে বাড়ছে তাপমাত্রা। শরীরকে শান্তি দিতে তাই উপযোগী পোশাক পরে সুস্থ থাকুন এ সময়ে।
মডেল লাবণ্য বিন্দু
পোশাক ফ্যাশন ভলিউম
মেকআপ সেগুফতা আজমি
ছবি রনি বাউল
