ফুল

নাগলিঙ্গম

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৪

আল-আমীন

 

নাগলিঙ্গম বা হাতির জোলাপ এক প্রকার বৃক্ষ। বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis, যা Lecythidaceae পরিবারভুক্ত।

নাগলিঙ্গম গাছ সাধারণত ১০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর গোড়ায় বেলের মতো শত শত ফল হয়। এটি একটি ঔষধি বৃক্ষ। ফল হুবহু কামানের গোলার মতো হওয়ায় এ গাছ ইংরেজদের কাছে ক্যানন বল নামে পরিচিত। নাগলিঙ্গম ফল হাতির প্রিয় খাবার, এজন্য কোথাও এ উদ্ভিদটি ‘হাতিফল’ নামেও পরিচিত। নাগলিঙ্গমের ফুল গাঢ় গোলাপি, সেইসঙ্গে হালকা হলুদ রঙের মিশ্রণ। পাপড়ি ছয়টি, পাপড়ি গোলাকার কুল্লি পাকানো। যেন ফণা তোলা সাপ। ফুলগুলো বেশ বড়। এক কথায় দেখতে অসাধারণ!

নাগলিঙ্গম ফুল সারা বছর ফুটলেও গ্রীষ্মকাল হচ্ছে নাগলিঙ্গম ফোটার আসল সময়। শীত এবং শরত্ কালে ফুল ফোটে কম। নাগলিঙ্গম আমাদের দেশে বিরল। এই ফুল সচরাচর দেখা যায় না। বেশিরভাগ মানুষের কাছে এটি অপরিচিত। পৃথিবীর অনেক দেশে নাগলিঙ্গম দেখা যায়। তবে এর আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার গভীর বনাঞ্চলে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেশকিছু নাগলিঙ্গম চোখে পড়ে। প্রাচীন এ গাছটি দেখতে পাওয়া যায় গাজীপুর রাজবাড়ি ও ব্রি ক্যাম্পাসে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, নটর ডেম কলেজ ক্যাম্পাস, রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন ও বরিশালেও আছে কয়েকটি।

নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে ব্যাপক ঔষধিগুণ। এর ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয়। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার করা হয় এর নির্যাস। এই গাছ থেকে তৈরি ওষুধ পেটের পীড়া দূর করে। পাতার রস ত্বকের নানা সমস্যায় কাজ দেয়। ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে নাগলিঙ্গমের পাতার রস ব্যবহার হয়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বেঁচে থাকুক নাগলিঙ্গম।