বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা
বেতাগী উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে গাইনি ও প্রসূতি চিকিত্সক না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মহিলা রোগী। গাইনী চিকিত্সকের অভাবে বাধ্য হয়েই অন্য বিভাগের চিকিত্সক, বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল অথবা বরগুনা কিংবা বরিশালে গিয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন তারা। ফলে অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয়সহ নানা ধরনের ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। এখানে ২৮ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছে মাত্র পাঁচ জন। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিত্সকের অভাবেও হিমশিম খাচ্ছে এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, এ হাসপাতালে ২৮ জন চিকিত্সকের মধ্যে বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তাসহ পাঁচ জন, ২৫ জন নার্সের বিপরীতে ২৩ জন এবং ৯০ জন কর্মচারীর বিপরীতে ৬৫ জন কর্মরত রয়েছেন। শিশু, অর্থো, কার্ডিও, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, শৈল বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন, ডেন্টাল সার্জন, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার পদে একদম কোনো চিকিত্সক নেই। বর্তমানে স্বল্পসংখ্যক চিকিত্সক দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালের চিকিত্সা কার্যক্রম।
উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের গর্ভবতী রোকসানা বেগমের স্বামী ইদ্রিস আলী অভিযোগ করেন, এ হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় সিজার করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমার স্ত্রীকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই দূরে গিয়ে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা মেডিক্যাল অফিসার ডা. উম্মে কোরাইমান তাহিরা জানান, প্রতিদিনই তার কাছে কমপক্ষে সাত থেকে আট জন মহিলা রোগী আসে। কিন্তু জটিল সমস্যা হলে তাদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল কিংবা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, প্রসূতির নরমাল ডেলিভারিসহ সব সেবা এখানে দেওয়া হয়। কিন্তু গাইনি না থাকায় সিজার করা হয় না। গাইনী চিকিত্সক থাকলে সমস্যার অনেকটাই লাঘব হতো। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
