দুই দিনে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা
মুন্না রায়হান
ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বেঁধে দেওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। রাজধানীর খুচরা বাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একলাফে প্রতি কেজি পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য! সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের গতকাল সোমবারের বাজারদরের প্রতিবেদনেও পেঁয়াজের দাম বাড়ার এ তথ্য তুলে ধরেছে।
গতকাল রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিন্তু গত শনিবার সকালেও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে হঠাত্ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম লাগামহীন বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়েছে ভোক্তারা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনিশ।
আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতের মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও মধ্য প্রদেশসহ পেঁয়াজের বড়ো সরবরাহকারী রাজ্যগুলোতে বন্যা হওয়ায় পেঁয়াজের উত্পাদন কমে গেছে। ফলে ভারত তাদের পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। গত দুই মাসের ব্যবধানে দুই দফায় এ মূল্য বাড়িয়ে বর্তমানে প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫২ ডলার। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত শুক্রবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনাটি জারি করে। ফলে এই মূল্যের নিচে ভারতের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবে না। এ কারণে গত শনিবার থেকে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, এক বছর আগে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানিতে ‘রপ্তানি মূল্য’ তুলে নেয় ভারত। তখন ব্যবসায়ীরা ১৫০ থেকে ২০০ ডলার মূল্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করতেন। দুই মাস আগে ব্যবসায়ীরা প্রতি টন পেঁয়াজ ৩৫০ থেকে ৪০০ ডলারে আমদানি করে। এখন আবার রপ্তানি মূল্য বাড়ানো হলো। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত নতুন করে রপ্তানি মূল্য বেঁধে দেওয়ার পর পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। তার পরেও দেশের বাজারে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গতকাল কাওরান বাজারে আসা একজন ক্রেতা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেশি দামের পেঁয়াজ তো এখনো বাংলাদেশে আসেনি। তাহলে ৭০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কীভাবে হলো? এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অবস্থার সুযোগ নিয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটছে।
হিলি বন্দরের আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, ভারতের মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও মধ্য প্রদেশসহ পেঁয়াজের বড়ো সরবরাহকারী রাজ্যগুলোতে বন্যা হওয়ায় পেঁয়াজ উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে। সেখানে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেওয়ায় দাম বাড়ছে। পেঁয়াজ আমদানিকারক মোর্শেদুর রহমান জানান, রবিবার নতুন রপ্তানি মূল্যের পেঁয়াজ আমদানি করতে ব্যাংকে এলসি করা হয়েছে। এতে করে ভোক্তাদের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। সে সময় এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৫ টাকা পর্যন্ত ওঠে। এখন আবার পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৭০ টাকায় উঠেছে। টিসিবির হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ৮৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও দেশি পেঁয়াজের দাম ৬২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।
স্বল্প মূল্যে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি
সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবি স্বল্প আয়ের মানুষের সুবিধার্থে আজ মঙ্গলবার থেকে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে। রাজধানীর পাঁচটি স্থানে ট্রাকে করে এ পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। স্থানগুলো হলো : প্রেসক্লাব/সচিবালয়ের গেট, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, মতিঝিল বক চত্বর, খামারবাড়ী ও যাত্রাবাড়ী। একজন ক্রেতা একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।
