প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় ৫ বিষয়ে ফেল
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর কাফরুলে শিক্ষকের বকুনিতে এক কলেজশিক্ষার্থী তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের আহসানউল্লাহ রোডের বনফুল সপ্তবর্ষী গ্রিন হার্ট কলেজে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম আকাশকে জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শাহরিয়ার ঐ কলেজের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, গত ২৬ আগস্ট প্রি-টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। গতকাল শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শ্রেণি কক্ষে পরীক্ষার ফল ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ফল ঘোষণা করেন শ্রেণি শিক্ষক সজল চন্দ্র বিশ্বাস। ৭টি বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি শাহরিয়ার। বাকি ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৫টি বিষয়ে সে অকৃতকার্য হয়। ফল ঘোষণার সময় শিক্ষক তাকে বকুনির পাশাপাশি বিষয়টি অভিভাবককে জানানোর জন্য তার মোবাইল ফোন দিয়ে শাহরিয়ারের বাবা জানে আলমের কাছে ফোন করেন। লাউড স্পিকার দিয়ে শিক্ষক কথা বলেন। ঐ সময় শিক্ষক শাহরিয়ারের বাবাকে অপমান করেন। এসব কথা শুনে শাহরিয়ার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শিক্ষক ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর শাহরিয়ার বাথরুমে গিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। এক পর্যায়ে তৃতীয় তলার বাথরুমের সামনের বারান্দা থেকে শাহরিয়ার ঝাঁপ দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, শাহরিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে, এ ঘটনার পর কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শাহরিয়ারের সহপাঠীরা জানায়, কয়েকদিন আগে তার মা স্ট্রোক করেন। এ নিয়ে শাহরিয়ার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এ কারণে সে একটি পরীক্ষা অংশ নিতে পারেনি। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে সে কোনো রকম অংশ নেয়। এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক সুদীপ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শাহরিয়ার পড়াশুনায় অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু কেনো যে প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় খারাপ করল-এটা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। ফল শোনার পর শাহরিয়ার যে এমন কাজ করবে- সেটাও আমরা ভাবতে পারি না। ’ কাফরুল থানার এসআই সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঘটনার পর পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেছে। তবে এ ব্যাপারে কলেজ বা অভিভাবকদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
