চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ খোয়া যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ল্যাপটপগুলোতে ভোটার তালিকা তৈরি ও হালনাগাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত ছিল। জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে একের পর এক ল্যাপটপ খোয়া গেলেও জেলা নির্বাচন কার্যালয় এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপগুলোর মধ্যে ১৫৫৭-৪৩৯১ কোডের একটি ল্যাপটপে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে ভোটার করার তথ্য সংরক্ষিত ছিল। ধারইা করা হচ্ছে ওই দুই হাজার ছিল মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। জালিয়াতির তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই ল্যাপটপটি লোপাট করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর চলমান তদন্তে ল্যাপটপ হারানোর বিষয়টি ধরা পড়ায় এ নিয়ে নির্বাচন কার্যালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা এরই মধ্যে দুই বার চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রাথমিক তদন্তে দুদক নিশ্চিত হয়েছে যে, নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সঙ্গে ল্যাপটপ খোয়া যাওয়ার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন।
গত রবিবার নির্বাচন কার্যালয়ে অভিযান শেষে দুদক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রতন কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ২০১৫ সালে হারিয়ে যাওয়া ৪৩৯১ কোডের ল্যাপটপ দিয়েই রোহিঙ্গাদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে। একই ল্যাপটপ দিয়ে কয়েকটি থানায় ভোটার তালিকার কাজ হয়েছে। ল্যাপটপটি পাওয়া গেলে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। দুদক চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপসহকারী পরিচালক মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে কীভাবে এতগুলো ল্যাপটপ নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে এর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা বা জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছে বলে মনে করেন না নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তবে সুর্নিদিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে কমিশন আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পেছনে শক্তিশালী চক্র: এদিকে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের নামে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের একটি শক্তিশালী চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইত্তেফাকের সরেজমিন অনুসন্ধানে চক্রের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তির নামে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মোস্তফা ফারুক নামের এক ব্যক্তির ব্যাপারে জানা যায় যিনি ল্যাপটপ গায়েব, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাত, মৃত ব্যক্তিকে ভোটার, স্মার্টকার্ড বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে বারবার চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির হস্তক্ষেপে প্রতিবার চাকরি ফেরত পেয়েছেন। একেক নিয়োগপত্রে তার একেক নাম দেখা গেছে।
জানতে চাইলে মোস্তফা ইত্তেফাককে বলেন, আমি ভালো কাজ করি বিধায় আমাদের অফিসে (জেলা নির্বাচন কার্যালয়) একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। বারবার চাকরি চলে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই চক্রটি আমাকে প্রতিবার পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছে। তবে (নির্বাচন কার্যালয়ের) স্যাররা আমাকে ‘পছন্দ’ করেন বলে বারবার চাকরি ফিরিয়ে দেন।
