বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে জড়িত ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীরাও

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২১

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামনের ফাঁকা জায়গার (টিএসসি নামে পরিচিত) দোকান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল-রাসেলের অনুসারীদের বিরুদ্ধেও। কেন্দ ীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে রদবদলের এক দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। চাঁদার টাকা কম দেওয়ায় খিচুড়ির পাতিল ছিনতাই ও দোকানিদের পিটিয়ে আহত করেন তারা।

টিএসসির ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা তাদের কর্মীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। দোকান বসানোর সময় প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর এলাকাভিত্তিক তারা বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েন। এতে করে টিএসসিতে চাঁদাবাজির ব্যাপকতা বেড়ে যায়।

জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলামের কয়েকজন অনুসারী টিএসসির দোকানিদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা কম দেওয়ায় এ সময় তাদের মারধর করা হয়। এরপর তারা ক্যাশ থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা নিয়ে চলে যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানি বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় মাছুম, মামুন, আলমগীর, লিখন, শিশির, কামরুলসহ ১২-১৫ জন টিএসসিতে এসে প্রতি দোকান থেকে ২০ হাজার এবং সিঙাড়া-সমুচার দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা তাত্ক্ষণিক চাঁদা দাবি করেন। এ সময় এত টাকা দিতে পারবেন না বলে জানালে দোকানদার ইমনকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করেন তারা। তাকে বাঁচাতে এলে আরো দুই দোকানি পিটুনির শিকার হন। এরপর সব দোকানের ক্যাশ থেকে টাকা লুট করেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টিএসসিতে চায়ের দোকান থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা হিসাবে মাসে ৪০ হাজার ৫০০, সমুচার দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা হিসাবে মাসে ১৫ হাজার, খিচুড়ির দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০০ টাকা হিসাবে ৪৮ হাজার এবং ফ্ল্যাক্সি লোডের রিচার্জের দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে মাসিক ৩ হাজার টাকা চাঁদা তোলেন তারা। এছাড়া মূল ফটকের সামনের দোকান থেকেও নেওয়া হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মাসে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তোলা হয়।

জবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর বলেন, ‘কেউ চাঁদাবাজি করছে কি না খোঁজ নিয়ে দেখব।’ এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা তৈরি করছি। খুব শিগগির আমরা এদের বিরুদ্ধে প্রাশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নেব। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা দরকার।’ সূত্রাপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি আছে। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’