মানিকগঞ্জে বিদ্যালয়ের মাঠে গরুর হাট, লেখাপড়ায় বিঘ্ন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০২

মানিকগঞ্জে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটিয়ে স্কুলের মাঠে বসছে গরুর হাট। চার যুগেরও বেশি সময় ধরে জেলার সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্কুলের আর্থিক সহযোগিতার নামে চলছে এ হাটের কার্যক্রম। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত কয়েক বছরে স্কুলটির জেএসসি ও এসএসসির ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়। জেলা শিক্ষা অফিসার ছয় মাস আগে পরিদর্শনে এসে স্কুল কর্তৃপক্ষকে হাট বন্ধের নোটিশ দিলেও তা আজও কার্যকর হয়নি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি মুনাফালোভী চক্রের কারণে বন্ধ করা যাচ্ছে না হাটটি। এটি জেলার সর্ববৃহত্ গরুর হাট বলে মানিকগঞ্জ জেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসেন এই হাটে। হাটের দিন ২-৩ হাজার ছোটো বড়ো পিকআপে প্রায় ৫ হাজার গরু-মহিষ নিয়ে আসা হয় সেখানে। এতগুলো গাড়ির কারণে গ্রামের ছোটো সরু রাস্তা দিয়ে আর চলাচলের উপায় থাকে না। সেই সঙ্গে স্কুলের মাঠে পড়ে থাকা গরু-মহিষের গোবরে এক বিচ্ছিরি অবস্থার সৃষ্টি হয়। একটু বৃষ্টি হলেই গোবর-কাদায় সব একাকার হয়ে পড়ে।

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন পরিবেশ শিশুদের লেখাপড়ার জন্য উপযোগী নয়। এছাড়া তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা করা প্রয়োজন। কিন্তু মাঠের এ অবস্থার কারণে তারা খেলাধুলাও করতে পারে না। গোবরের দুর্গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে থাকে, শিক্ষার্থীদের নাক চেপে ধরে রাখতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থও হয়ে যায়। গরুর হাট রবিবারে বসার কারণে রবিবার অর্ধেক স্কুল হলেও বৃহস্পতিবার হাফ-ডেতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে করানো হয় ফুল স্কুল। রবিবার নামেমাত্র হাফ স্কুল হয়। ঐ দিন শিক্ষার্থীরা আসলেও কোনো ক্লাস হয় না। অভিভাবকরা এজন্য হাটের দিন ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠান না।

সরেজমিনে রবিবার দুপুরে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা রশিদের মাধ্যমে হাসিলের টাকা ওঠাচ্ছেন। দেখে মনে হয় এটা কোনো স্কুল নয় যেন হাটকে কেন্দ্র করেই স্কুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। হাটটিতে প্রতি সপ্তাহে সহস াধিক গরু-মহিষ ক্রয়-বিক্রয় হয়। প্রতিটি গরু-মহিষ থেকে হাট কর্তৃপক্ষ ২০০ টাকা করে হাসিল উত্তোলন করেন। সেই হিসেবে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা হাসিল উত্তোলন হয়।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে গরুর হাট বসা যে ঠিক নয়, সে বিষয়টি আমরাও বুঝি। কিন্তু স্কুলটির উন্নয়নের জন্য প্রায় চার যুগ ধরে চলছে এ হাটটি। আমরা স্কুলের বাইরে একটি জায়গা খুঁজছি হাটের জন্য। আশা করছি ম্যানেজিং কমিটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাটটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেবে। এ সময় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ইয়াকুব আলী ও মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারাও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, একটি স্কুল মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান, কোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়। আমি ছয় মাস আগে স্কুলটি পরিদর্শন করে হাট বন্ধের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়ে এসেছি। হাটটি বন্ধে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।