বাংলাদেশ কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়
মো. নাবিল তাহমিদ রুশদ
ছোটোবেলা থেকেই ছোটাছুটি, দৌড়াদৌড়ি করতে ভালোবাসত সাজ্জাদ হোসেন সোহান। সময় পেলেই বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপে সময় কাটতো সাজ্জাদের। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই স্কুল ও কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হয়ে ওঠেন সেরা অ্যাথলেট। স্বপ্ন দেখতেন বড়ো হয়ে ‘আয়রন ম্যান ট্রায়াথলন’ (নির্দিষ্ট সময়ে একই সঙ্গে সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়) চ্যাম্পিয়ন হবেন। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে সাজ্জাদ ভর্তি হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবির) ভেটেরিনারি ফ্যাকাল্টিতে। টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ক্লাস, প্রাকটিকাল, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপ অনেক বেশি। প্রথমদিকে এতো চাপের মাঝে খেলাধুলা বা ক্রীড়া চর্চাটা ঠিক আগের মতো করতে পারছিল না সাজ্জাদ। এক রকম কোণঠাসায় পড়ে যায় তার স্বপ্নটা।
কিন্তু অ্যাথলেটিক্সের প্রতি তীব্র আগ্রহ ও হাতছানি দিয়ে ডাকা স্বপ্ন তাকে বেশিদিন দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাই তো জেগে ওঠে আবার নতুন উদ্যোমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব চাপকে পাশ কাটিয়ে কয়েকজন বন্ধুসহ শুরু করে স্কেটিং করা। সাজ্জাদের সাথে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহেল রানা সোহান, সায়েম, সোহাগ, তিতাস, নাইম ও অঙ্গনসহ আরো অনেকে। শরীর ও মন ঠিক রাখতে প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে দৌড়াতে শুরু করে সবাই।
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হওয়ায় প্রায়ই তারা বিভিন্ন ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নিত তারা। সম্প্রতি গাজীপুরে ‘ম্যারাথন বাংলাদেশ’ আয়োজিত ৮০ কিলোমিটার দূরত্বের আল্ট্রা ম্যারাথন ইভেন্টে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় বাকৃবির সাজ্জাদ হোসেন। ১১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটে ৮০ কি.মি. ম্যারাথন শেষ করে সাজ্জাদ। অন্যদিকে ৮০ কিলোমিটার আল্ট্রা ম্যারাথনে অংশ নেওয়া মোট ৬ জন রানারের মধ্যে বাকৃবির সায়েম আহমেদ ১৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে ও সোহেল রানা সোহান ১৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে ম্যারাথন সফলভাবে শেষ করে। প্রত্যেকেই প্রথমবারের মতো ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দারুণভাবে সফল হয়েছেন। প্রতিযোগিতা শেষে সকল ফিনিশারদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দেন ম্যারাথন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা আরিফুল ইসলাম এবং দেশের সিনিয়র রানারবৃন্দ।
এর আগে বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক থেকে কেওক্রাডং পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ী পথে অনুষ্ঠিত হওয়া ট্রেইল ম্যারাথনে প্রথম রানার আপ হয় সাজ্জাদ হোসেন (ভেটেরিনারি), ৬ষ্ঠ হয় সোহান (ভেটেরিনারি) ও অষ্টম হয় সায়েম আহমেদ (ফিশারিজ)। সারাদেশের ৪২ জন অ্যাথলেটের মাঝে প্রথম ১০ জনের ৩ জনই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
