দুই বছরে বাংলাদেশ-চীনের বাণিজ্য ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার আশা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্রমাগত বাড়ছে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৮ বিলিয়ন (১ হাজার ৮০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এক আলোচনা সভায় এ আশার কথা জানান শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক উপলক্ষ্যে ঐ সভার আয়োজন করা হয়।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উভয় দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বেশিরভাগই চীনের পক্ষে।

বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট গাজী গোলাম মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ার-ম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের ইকোনোমিক ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলর লিউ জেনহুয়া বক্তব্য দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের সবচেয়ে বড়ো উত্স। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ চীনের তৃতীয় বৃহত্ রপ্তানির বাজার। দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গভীর সমুদ্র বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে, বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্পখাতে চীনকে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ভারসাম্য সব সময় চীনের অনুকূলে রয়েছে। বাণিজ্যঘাটতি কমাতে চীনে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে। চীনে চারকল রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি কিছুটা কমছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে ৫ লাখেরও বেশি চীনা জনশক্তি কাজ করছে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশের সকল পণ্য চীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার দাবি রাখে। চীন বর্তমানে ভিয়েতনাম ও মিয়ারমার থেকে অনেক পণ্য আমদানি করছে, যা বাংলাদেশ থেকেও আমদানি করা সম্ভব। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় এনে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ থেকে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানির জন্য চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।