অযত্ন-অবহেলায় কোটবাড়ী ইটাখোলা মুড়া

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২০

ময়নামতি শালবন বৌদ্ধবিহার থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কুমিল্লা-কালিরবাজার সড়কের পাশে প্রায় ২০ মিটার উঁচু ঢিবিতে ইটাখোলা মুড়ার অবস্থান। এখানে পাশাপাশি পূর্বমুখী একটি মন্দির ও একটি বিহার রয়েছে। অষ্টম-নবম শতাব্দীর মন্দিরটিতে পাঁচটি বসতি আমল ও বিহারটিতে দুটি বসতি আমলের অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়েছে। বিহারটি মন্দিরের কিছুটা উত্তরে অবস্থিত। এখানকার মন্দিরের সঙ্গে ময়নামতি এলাকায় আরেকটি ঐতিহাসিক নিদর্শন চারপত্র মুড়ায় আবিষ্কৃত মন্দিরের সাদৃশ্য রয়েছে। ছোটো আকারের বিহারে রয়েছে চার বাহুতে এক সারি করে ভিক্ষু কোঠা এবং মাঝখানে খোলা চত্বর। মন্দির খননে আবিষ্কৃত হয় চুন-বালিজাত উপকরণে গড়া একটি বড়ো আকারের লোকোত্তর বুদ্ধ অক্ষোভ্য (উপরের অংশ ছাড়া), তিনটি সোনার পিণ্ড, একটি রূপার হরিকেল মুদ্রা, কিছু ছোট আকারের ধাতব মূর্তি, একটি ধাতব লিপিফলক। এছাড়াও পোড়ামাটির চিত্রফলক, কারুকাজ করা ইট, মুদ্রক-মুদ্রিকা, মাটির হাঁড়িকুড়ি। বুদ্ধ-অক্ষোভ্যটি মন্দিরের মূর্তি কোঠায় এখনো নির্মাণকালীন সময়ের মতো যথা অবস্থায় রয়েছে। তবে ওপরে কোনো শেড বা রোদ-বৃষ্টি থেকে মূর্তিটি রক্ষার কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় বিগত প্রায় ৩৫ বছরের বেশি সময় এই নিদর্শনটি বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। মূর্তিটি চারপাশের বদ্ধ দেয়ালের কারণে সেখানে বৃষ্টির পানি জমে এরই মাঝে শ্যাওলাসহ নানা ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। রোদ ও বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষার জন্য মূর্তিটিতে কাচ বা অন্য কোনো আবরণ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মামশাদ কবীর

কান্দিরপাড়, কুমিল্লা