শুধু বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েই প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে ৫০০০-এর বেশি মানুষ ভারত যায়। অন্যান্য স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে যান আরো কয়েক হাজার যাত্রী। এঁদের মধ্যে ৯০%-এর বেশি মানুষের ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্য চিকিত্সা। কলকাতা ছাড়াও চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর ও দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালেও বাংলাদেশের রোগীরা চিকিত্সার জন্য নিয়মিত যাচ্ছেন। সেখানে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, চিকিত্সকের দর্শনী ও পরীক্ষা এবং ওষুধ কেনার জন্য তাঁরা প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছেন। এই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে সঞ্চিত থাকলে দেশের লাভ হতো।
এদেশের বেশিরভাগ চিকিত্সকের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, কমিশন লাভের জন্য অপ্রয়োজনে ব্যয়বহুল পরীক্ষা ও ওষুধ প্রদান, কারিগরি দক্ষতা ও যন্ত্রপাতির অভাবে যথাযথভাবে রোগ নির্ণয় করতে না পারা, বিনা কারণে অপারেশন সর্বোপরি চুরি করে রোগীর কিডনি বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রকাশিত হওয়ার কারণেই রোগীদের চিকিত্কদের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের চিকিত্সকরা এসব প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে পারলে খুব কম রোগীই চিকিত্সার জন্য ভারতে বা অন্য কোনো দেশে যেতেন। দেশের হাজার কোটি টাকা বেঁচে যেত। বরং বাংলাদেশ কাছে হওয়ায় পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য, ভূটান ও নেপালের রোগীরা শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে চিকিত্সার জন্য কলকাতা, চেন্নাই না গিয়ে এদেশে আসতেন, যেভাবে কম খরচে পড়ার জন্য এসব অঞ্চল থেকে অনেক ছাত্র এদেশে আসে।
একইসঙ্গে ভুল চিকিত্সাকারীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। আজ পর্যন্ত ভুল চিকিত্সার অভিযোগে বাংলাদেশে কোনো চিকিত্সকের শাস্তি হয়নি। বরং অভিযুক্ত চিকিত্সকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য বিএমডিসি নামে জনগণের টাকায় পরিচালিত একটা প্রতিষ্ঠান অভিযুক্তদের রক্ষার জন্যই সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। আমি নিজে ২০০১ সালে সেখানে ভুল চিকিত্সার অভিযোগ দিয়ে ১৮ বছরেও কোনো প্রতিকার পাইনি। চিকিত্সকদের ব্যাবসায়িক চিন্তা ছেড়ে রোগীর প্রতি সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন ছাড়া বাংলাদেশের রোগীদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
অনল চৌধুরী
৬৫ শান্তিনগর, ঢাকা ১২১৭
